প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১৫:০১ পিএম
আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দুপুরে সিপিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট পেশ করার আগে মন্দাবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৩০ মে) দুপুরে সিপিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
দুর্নীতি- বৈষম্যমুক্ত, গণতান্ত্রিক সমাজ গড়া ও সুশাসনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ণের লক্ষ্যে সিপিবির সেই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বৈষম্য হ্রাসের জন্য প্রগতিশীল প্রত্যক্ষ করনীতি ও প্রগতিশীল ভ্যাট নীতি চালুকরণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য সারাদেশে ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতকরণ, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এ আনার জন্য দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানো, খেলাপি ঋণ উদ্ধারের বিশেষ ভূমিকা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, বাজার সিণ্ডিকেট ভেঙ্গে সমবায়ী উৎপাদক-ভোক্তা বাজার ব্যবস্থা চালুকরণ।
লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই এবারের বাজেট বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন অধ্যাপক এম এম আকাশ।
তিনি বলেন, গত ১১ বছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কখনও ৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে আসেনি। এবার তা এসেছে। গত ১০ বছরে এবারই প্রথম মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া গত ৭ বছরে বিদেশি রিজার্ভের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। দারিদ্র্য পরিমাপের অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশে আয় বৈষম্য এখন শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে শূন্য দশমিক ৫০ স্তরে পৌঁছালে তা বিপজ্জনক বলা হয়। যেসব মধ্যম আয়ের দেশ এই মাত্রার গনি সহগে পৌঁছায় তাদের পক্ষে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অধ্যাপক আকাশ বাজেট বাস্তবায়নের পথে ‘গণতন্ত্রহীনতা, কর্তৃত্বপরায়ণতা ও বৈদেশিক চাপের’ নানামুখী প্রভাবের কথাও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজস্ব আয় কম, কারণ ১ শতাংশ অতি ধনীদের কাছ থেকে সরকার যথাযথ মাত্রায় কর আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আবার দেখা যাচ্ছে, যাবতীয় সরকারি ব্যয়ের বৃহৎ অংশ চলে যায় শ্বেতহস্তি আমলাতন্ত্র, আইন প্রয়োগকারী ও দেশরক্ষক সেনাবাহিনীর জন্য।এ জন্য প্রত্যক্ষ কর বাড়িয়ে রাঘব বোয়ালদের করের জালের মধ্যে আনতে হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার খাতে শ্রমজীবী গোষ্ঠীর জন্য বাজেটে যে বরাদ্দ রয়েছে তা নিতান্ত অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘যে ক্ষুদ্র ঋণ বহুদিন ধরে চলছে, তাতে মাত্র ১০ শতাংশের পক্ষে দারিদ্র্যমুক্ত হওয়া সম্ভব হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অধিকার যথাযথভাবে বাড়ানোর জন্য রাজস্ব উদ্বৃত্ত সরকারের নেই।’
মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সরকার ধনী উদ্যোক্তাদের ‘বেআইনি সুবিধা’ দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন এম এম আকাশ। তিনি বলেন, ‘দায়মুক্তি আইনের সুরক্ষাও আছে তাদের জন্য। মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। সরকার তা ঋণ করে বাইরে থেকে আনতে বাধ্য হচ্ছে। যখন ঋণ শোধের পালা আসবে বা আইএমএফের শর্তগুলো ঘাড়ের ওপর এসে পড়বে, তখন সরকার তা সামলাবেন কী করে?’