প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ০০:৩৬ এএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৩ ১১:৩৬ এএম
আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী সরকার ও শাসনব্যবস্থা হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সিপিবির নেতারা।
সোমবার (২৯ মে) বিকালে আবু জাফর আহমদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় নেতারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ তাহির চন্দন, লক্ষ্মী চক্রবর্তী প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। স্মরণসভার শুরুতে প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
নেতারা বলেন, গণমানুষের মুক্তির জন্য সৈয়দ আবু জাফর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি আমৃত্যু অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল ছিলেন। কর্তৃত্ববাদী শাসন হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাফরের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে।
সিপিবি নেতারা বলেন, আদর্শহীনতার বিপরীতে সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ছিলেন সততা, আদর্শনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে; স্বাধীন দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার; তেল-গ্যাসসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিপীড়িত ক্ষেতমজুর, চা শ্রমিক ও শব্দকর জনগোষ্ঠীর মুক্তির লড়াইয়ে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা বলেন, বিলোপবাদীদের পার্টি ধ্বংসের অপচেষ্টা রুখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের সংকট মোচনে দ্বিদলীয় ধারার বাইরে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তিবলয় গড়ে তোলার কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সিপিবি নেতারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ নানাভাবে দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে। সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে। এজন্য গণআন্দোলন জোরদার করতে হবে। জনগণের লড়াইয়ের কাছে কর্তৃত্ববাদী সরকারকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে।
তারা বলেন, দেশ ও মানুষ বাঁচাতে দুঃশাসন হটাতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।