প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৩ ২০:৩৭ পিএম
‘বহু প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে, নিপীড়ন সয়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ গঠনে আত্মোৎসর্গ করেছেন। বহু প্রলোভন উপেক্ষা করে হয়ে উঠেছিলেন নিপীড়ত মানুষের কণ্ঠস্বর।’
গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঐক্য ন্যাপের প্রয়াত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা পঙ্কজ ভট্টাচার্যের স্মরণে জাতীয় শোকসভায় রাজনীতিবিদরা এসব কথা বলেন।
শোক সভার আয়োজন করে ঐক্য ন্যাপ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি এস এম এ সবুর।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন, সিপিবির সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ শ্রমিকনেতা মনজুরুল আহসান খান ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক প্রধান, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শহীদুল্লাহ্ শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, ঢাবির সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি মফিজ কামাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ন্যাপের (মোজাফফর) ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রাফিউর রহমান রাব্বিপ্রমুখ।
এছাড়াও পঙ্কজ ভট্টাচার্যের পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার শ্যালিকা মৌসুমী দাশ পুরকায়স্থ, বহ্নি দাশ পুরকায়স্থ ও ভ্রাতুষ্পুত্র পাহাড়ি ভট্টাচার্য।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশের সেবার, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্য আত্মোৎসর্গ করেছিলেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি একটি মন্ত্রে বিশ্বাস করতেন- সবার ওপরে মানুষ সত্য। আমরা যখন রাজনীতিতে সাম্য ও প্রগতির কথা বলি, সেখানে কল্যাণ ও সুন্দর একটি দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নানা হয়রানি সত্ত্বেও সারা জীবন সেই রাজনীতিতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য।’
রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘মানুষের স্বার্থে গোটা জীবন উৎসর্গ করে দেবেন, এমন রাজনীতিবিদ এখন বিরল। পঙ্কজ ভট্টাচার্য মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে পঙ্কজ ভট্টাচার্য অনেক রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু তার সে লক্ষ্য অপূর্ণ থেকে গেছে।
অধ্যাপক এম এ আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে যখন ন্যাপের জন্ম হল, তখন লক্ষ্য ছিল সমাজতন্ত্রের পথে একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা। সে সময় লক্ষ্য ছিল, আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ- এই তিন দলকে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলা। তবে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের পর সেই ঐক্য আর টিকে থাকল না। পরে রাজনৈতিক নানা চড়াই পেরিয়ে নব্বইয়ের দশকে এসে পঙ্কজ ভট্টাচার্য ঐক্য ন্যাপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি প্রগতিশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।’
নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘আমাদের হালের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হল, সবকিছুতে কেবল হ্যাঁ বলে যাওয়া। তবে পঙ্কজ ভট্টাচার্য সবকিছুতে হ্যাঁ বলতেন না। তিনি কিছু কথায় না বলতেও পিছপা হননি। প্রয়োজনে তিনি লাঠি তুলেছেন, পাঞ্জা তুলেছিলেন।’
গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৮৩ বছর বয়সি পঙ্কজ ভট্টাচার্য।