প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৩ ১৩:৪৩ পিএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৩ ১৪:২৩ পিএম
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী
দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করতে আওয়ামী লীগ সরকার নানান চক্রান্তে মেতেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা মজনুকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান তিনি।
এ সময় তিনি ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর খোঁজ চান। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশ মেনে তাকে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়াসহ সারা দেশ ডুবে আছে অনাচার ও নৈরাজ্যের অমানিশায়। প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা ধরে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন, সেজন্যই বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চলছে।
১৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ এমন নিপীড়ন চালিয়ে আসছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, এর বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত চলমান কর্মসূচি বানচাল করতে সরকার গায়েবি মামলা, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করছে। গুলি চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা, অন্ধ ও পঙ্গু করে দিচ্ছে।
বিএনপি নেতা মজনুকে ‘তুলে নেওয়া’ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুকে নিজ বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু পুলিশ মজনুকে আটকের কথা এখন পর্যন্ত স্বীকার কিংবা তার কোনো হদিস দিচ্ছে না। অথচ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সবার সামনে থেকে মজনুকে তুলে নিয়ে গেছে। তাকে ডিবি কার্যালয়েই রাখা হয়েছে, কিন্তু তারা এখনও স্বীকার করছে না।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মজনুর পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীরা শঙ্কিত।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনের এক আদেশে কোনো উপযুক্ত আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া মজনুকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান রিজভী।
সেই নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া পেন্ডিং মামলায়ও তাকে যাতে গ্রেপ্তার দেখানো না হয় তা উল্লেখ আছে।
রিজভী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় পুলিশ গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে হানা দিচ্ছে। ঢাকাসহ সারা দেশকেই এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত করা হয়েছে।
গত কয়েক দিনে খুলনা, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, নেত্রকোণা, ফেনীসহ বেশকিছু জেলায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
ঢাকা, যশোর, সিলেট, ঝিনাইদহ ও রাজশাহীতেও একইভাবে হামলা চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলেও জানান।
বিএনপি এখন কোনো কর্মসূচি পালন পারছে না। কর্মসূচি দিলেই আওয়ামী লীগ তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছে বলে দাবি করেন রিজভী।
এসব করার উদ্দেশ্য আবারও একতরফা নির্বাচন বলেও মনে করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা। সে কারণেই ভোট সামনে রেখে এমন অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দাবি রিজভীর।
রিজভী বলেন, ‘আমি অবিলম্বে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে রফিকুল আলম মজনুর হদিস দিয়ে তাকে তার পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপির গ্রেপ্তার নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।