বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৩ ১৬:৪১ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৩ ১৭:১১ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিথিরা। প্রবা ফটো
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতার জন্য না, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর
জন্য রাজনীতি করেন। শনিবার (২০ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। এ ছাড়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর
হাসান সৈকত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক
শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ’শেখ হাসিনা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন
না, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতার জন্য লড়াই করেননি। বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতার জন্য
অনেক প্রস্তাব দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ধমনিতেও সেই
তেজ আমরা দেখেছি। ক্ষমতার জন্য যদি রাজনীতি করতেন তাহলে তিনি বহু আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী
হতে পারতেন। ১৯৮২ সালে, ১৯৯১ সালে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তিনি
তা গ্রহণ করেননি। তিনি দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য রাজনীতি করেন।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ’সেদিন (১৯৮১ সালের ১৭ মে) আকাশ দেখে মনে হয়েছিল, প্রকৃতি তোপধ্বনি
দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে স্বাগত জানাচ্ছে। সেদিনের যে আবেগ, উচ্ছ্বাস, সেটি ভাষায় প্রকাশের
মতো নয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা করা
হয়েছিল। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ব্যক্তি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
ছিল না। ওই দিন গণতন্ত্রের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রত্যাবর্তন হয়েছে। বারবার মৃত্যু
উপত্যকা থেকে ফিরে এসে তিনি দ্বিধান্বিত হননি, বিচলিত হননি, থমকে দাঁড়াননি, বরং তিনি
মানুষের পাশে থেকে কাজ করে গেছেন, এগিয়ে গেছেন।’
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি দেশে-বিদেশে সমর্থন হারিয়েছে।
আমি বলব, আপনারা দেশের সমর্থন দেখার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। তারা ২০০৮ সালে
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুরো শক্তি দিয়ে নির্বাচন করে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল। ২০১৪
সালের নির্বাচনে পালিয়েছিল। আমি এবার অনুরোধ করি, নির্বাচনে আসুন। আর বিদেশি সমর্থন
সম্প্রতি বিদেশ সফরগুলো দেখলেই বোঝা যায়। কী পরিমাণ সম্মান করেছেন তা আমরা দেখেছি।
বিদেশি এই পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তার চুক্তিও করেছে। ফখরুল
সাহেবরা এসব দেখেও যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তাদের চোখের পরীক্ষা দরকার। যদি এসব না
শুনেন তাহলে কানের চিকিৎসা করা দরকার। তারা শেখ হাসিনার যে বিশ্বময় গ্রহণযোগ্যতা তা
দেখেও দেখেন না, শুনেও শুনেন না, বুঝেও বোঝেন না। না বোঝার ভান করতেছেন।’
সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমাদের কাছে তিনটি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস রয়েছে এবং তিনটি ভিন্ন
প্রেক্ষাপটের। সেদিন যদি শেখ হাসিনা ফিরে না আসতেন, তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে
আসত না। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশই আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল।
সেদিন শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসাটা বাংলাদেশের নতুন জন্ম। আজকের দিবস পালনের তাৎপর্য
হচ্ছে, সেদিন দেশে ফিরে আসা শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গেছেন, তা উপলব্ধি করা।’