প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ২১:৩২ পিএম
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী কারাগার থেকে বের হয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মাধ্যমে এটি আবারও প্রমাণিত হয় যে দেশে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত আছে। বুধবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ‘ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে এসেছি’ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘রিজভী সাহেব যদি মনে করেন উনি ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে এসেছেন এবং উনি যদি আবার ছোট কারাগারে যেতে চান, তাহলে সরকার সে ব্যবস্থা নিতে পারে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে যেভাবে বিরোধী দল সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা এমনকি মাঝেমধ্যে রাতেও সরকারের প্রতি বিষোদগার করছে এবং যেভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে, সেটির নজির পাশের দেশেও আছে কি না তাকিয়ে দেখুন। বিএনপিকে বা এ নিয়ে যারা কথা বলেন, সমালোচনা করেন, খবরাখবর রাখেন, তাদের আমি বেশি দূরে যেতে বলব না, শুধু অনুরোধ জানাব ভারতের দিকে তাকানোর জন্য।’
উদাহরণ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বক্তব্যের কারণে রাহুল গান্ধীর দুই বছর জেল হয়েছে, সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে যিনি মামলা করেছেন তিনি বিজেপির একজন সদস্য, এমপি ছিলেন। আমাদের দেশে বিরোধী দলের নেতারা যেভাবে বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের দলের ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে এমনকি আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়; সেজন্য কি আমরা আদালতে গেছি। এখান থেকেই তো বোঝা যায় যে এখানে গণতান্ত্রিক চর্চা ও বাকস্বাধীনতা কত বেশি আছে। অর্থাৎ আমাদের এখানে গণতান্ত্রিক চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সেটি অনেক দেশের চেয়ে অনেক ভালো, উন্নত। এমনকি ভারতের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের এখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বেশি।’
তথ্যমন্ত্রীকে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের ধন্যবাদ
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের নেতারা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরিষদের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম খসরু, শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ বাচ্চু, প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু তাদের বক্তব্যে সিনেমা হল নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার সহজ ঋণ তহবিল গঠনের সফল উদ্যোগ, সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের অনুরোধে হিন্দি সিনেমা আমদানির অনুমতি দেওয়াসহ চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে আন্তরিক ও কার্যকর ভূমিকার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। কাজী হায়াৎ এ সময় সমিতির পক্ষে ১০ দফা প্রস্তাব তথ্যমন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ’আমাদের দেশে চলচ্চিত্র শিল্প ইতোমধ্যেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ৭০টির বেশি ছবি মুক্তি পেয়েছে, যা গড়ে প্রতি সপ্তাহে একটির বেশি। ঈদ উপলক্ষে সম্ভবত আটটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। একটি ছবি ১০০ সিনেমা হলে একযোগে মুক্তি পেয়েছে। অর্থাৎ চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ’হিন্দি সিনেমা আমদানির বিষয়ে প্রদর্শক সমিতি বহুদিন ধরে বলে এলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সব সমিতি বিশেষ করে শিল্পী সমিতি একমত না হলে আমি পদক্ষেপ নিতে রাজি হইনি। অবশেষে আপনারা শিল্পী সমিতিকে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পেরেছেন, এজন্য অভিনন্দন। বছরে ১০টি ভারতীয় সিনেমা এ দেশে আমদানি হলে আমাদের সিনেমার কোনো ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করি না। বরং মানুষ হলমুখী হবে, অনেক হল খুলবে। তখন আমাদের ছবির জন্য আরও বড় জায়গা তৈরি হবে।’