প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৩ ১৭:১৬ পিএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩ ১৭:৫৭ পিএম
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। প্রবা ফটো
দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে বলে
মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে বলেই আমাদের দেশে নতুন নতুন
বিনিয়োগ আসছে, যা আমাদের উন্নত বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’
সোমবার (২৭ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ফ্লান্ডারস অ্যান্ড ওয়ালোনিয়া সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বেলজিয়াম বাণিজ্যবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বেলজিয়ামের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ডিডিয়ার ভ্যান্ডারহাসেল্ট। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. সামির সাত্তার, বেলজিয়ামের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনার বেবিথি দেসফোরেজ। এ ছাড়া বেলজিয়াম ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে এক আমূল
পরিবর্তন এসেছে। আমরা এলডিসিতে গ্র্যাজুয়েট হয়েছি। আমাদের দেশে ব্যাপক অবকাঠামোগত
উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে ৩৫ নম্বর অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু ৫০ বছর পূর্বে কেমন ছিল
বাংলাদেশ? আমাদের দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বিশ্ব
খাদ্য সংস্থা আমাদের দেশ নিয়ে গবেষণা করছে, এত জনবহুল দেশে
আমরা কীভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি।
এমনকি আমরা নিজেরা আমাদের খাদ্য জোগান দিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চার মিলিয়ন
(৪০ লাখ) মানুষ রয়েছে, যাদের মাথাপিছু আয় ৫
হাজার মার্কিন ডলার। এজন্য যেকোনো দেশে বা
প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। আমাদের দেশের মানুষের
সেই সক্ষমতা রয়েছে। এখানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনা রযেছে। বাংলাদেশে ১০০
ইকোনমিক জোন তৈরি হচ্ছে, যা আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা।
জাপানসহ বিভিন্ন দেশের বহুল পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে তাদের উৎপাদন কাজ চালাতে
পারবে। সেখানে আমি অন্যান্য দেশকেও আমন্ত্রণ জানাব।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। আর এখন আমাদের লক্ষ্য
২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে আমরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে যাব। বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। এ কারণে অনেক দেশ আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে, যা সত্যিই আমাদের আশাবাদী করছে ভবিষ্যতে উন্নত বাংলাদেশ হতে।’
রাষ্ট্রদূত ডিডিয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে
যাচ্ছে। নতুনভাবে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি বিশেষ অঞ্চল। এখানে ব্যবসায়ীদের
কাজের অনেক সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে দুই দেশের সরকার ও মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি পাবে।’
সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের ১০০টি ইকোনমিক জোনের মধ্যে কয়েকটি উৎপাদনে গেছে। আমরা জানি, বেলজিয়ামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর। আমরা চাই, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করুক। নতুন নতুন কাজের সুযোগ হোক। আর এখনোই উপযুক্ত সময় বিদেশি বিনিয়োগের। বিশেষ করে আমরা চাই তারা হাইটেক (উচ্চ প্রযুক্তি) খাতে বিনিয়োগ করুক। আমাদের দেশে এখনও সেভাবে বিনিয়োগ আসেনি। আশা করছি, তারা ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে বলেই আমাদের দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসছে।’