প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৫:১৮ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৫:২৪ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে রাজনৈতিক দলকে সংলাপের চিঠি দেওয়া সরকারের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চিঠির বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে। নির্বাচন কমিশন দিয়ে চিঠি সরকারের নতুন কৌশল। কমিশনের কোনো ক্ষমতা নাই কিছু করার। এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, তাই আসল জায়গায় কাজ করুন। নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের ঘোষণা দিতে হবে।’
শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের জন্য গত বৃহস্পতিবার বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অবশ্য বিএনপি এ আমন্ত্রণ নাকচ করে দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে নতুন খেলায় নেমেছে। মুখে গণতন্ত্র ও ভোটের কথা বলবে আর প্রশাসনকে যেভাবে বলবে সেভাবে চলবে। আবারও একই পাঁয়তারা করছে, পশ্চিমা বিশ্ব আগের মতো নির্বাচন চায় না।’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিএনপিকে নয়, জনগণকে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। মানে তত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।’
দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশ্বে দাম কমলেও দেশে কমে না। সব চুরি করার কারণে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন, তারা ভয়ঙ্কর মিথ্যা ইতিহাস দীক্ষা দিচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনা কি চুরি করা? লুট করে ভোট কেড়ে নেয়া? সিন্ডিকেট করে রমজানে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করা? সেদিন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শুন্যতা ও ব্যর্থতার কারণেই ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা ঘটেছিল।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার চেতনা আজ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। একটি মহলের স্বার্থ রক্ষা করতে জনগণের আশা আকাঙ্খা লুট করছে আওয়ামী লীগ সরকার। আজীবন ক্ষমতায় থাকতে গণহত্যা করেছে। ভোটের অধিকার সব জায়গায় কেড়ে নিয়েছে সরকার। ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা না থাকায় সিন্ডিকেট করে অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে।’
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বিএনপি ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে না, যা বলে তাই করে। বিএনপি মানুষের জন্য কাজ করে। দেশের মানুষের টাকা কেনো লুটপাট করে পাচার করা হচ্ছে, এমন স্বাধীনতা চায়নি বাংলার জনগণ। স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ও আদর্শ আবারও প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাকশালি কায়দায় সবাইকে কারাগারে বন্দি করে নির্যাতন চালাচ্ছে সরকার। আবারও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’
স্থায়াী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত সরকার। এটা জনগণ হতে দিবে না, আগামি নির্বাচন হতে দেয়া হবে না সবাইকে এক থাকতে হবে।’
আলোচনা সভায় দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাজাহান ওমর, আহমেদ আজম খান, এজএড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।