প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৫০ পিএম
জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। ছবি: প্রবা
‘জনসমর্থনহীন’ এই সরকারের পক্ষে ভারতের সঙ্গে দেশের অভিন্ন সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে যে আমাদের অভিন্ন সমস্যাগুলো আছে। যেমন, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যা, সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা এবং অন্যান্য যে সমস্যাগুলো আছে এই গুলোর সমাধান বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত করতে পারেনি। এর কারণ ওদের পেছনের জনগনের সমর্থন নেই। সেজন্য এখন পর্যন্ত সেই শক্তি নিয়ে এই সরকার কোনো কাজ করতে পারেনি।’
শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রসঙ্গে সোমবার নিজের দেওয়ার বক্তব্য টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি গতকালও বলেছি, উনি (শেখ হাসিনা) তো প্রত্যেকবার গেছেন। আমাদেরকে অনেক আশা দিয়ে গেছেন-এই তিস্তা চুক্তি সই হবে, ওমুক হবে, তমুক হবে। সেটা এখন পর্যন্ত কোনটাই হয় নাই।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, ১০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছিল সেটারও আপনার ৩০% মাত্র কাজ হয়েছে। আর কোনো কাজ হয়নি। এই বিষয়গুলো নির্ভর করে জনগণের শক্তির ওপর। জনগণ যদি এই সরকারকে সমর্থন দিতো তাহলে প্রত্যেকটি কাজই ইতিমধ্যে হয়ে যেত। আমি আবারও বলছি, উনি ফিরে আসুন, কী কী আনছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য- সেটাই হবে এই সফরের সাফল্য।’
ভারতের পালাম বিমান বন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে একজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন- বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। কারণ এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের যে বক্তব্যগুলো এবং এই সরকারের বেশির ভাগ মন্ত্রীদের যে বক্তব্য তাতে তো খুব স্পষ্ট যে, ওরা যেভাবেই রিসিভ করুক, তারা যাবে এবং সেটা নিয়ে তাদের খুব একটা বড় রকমের সমস্যা থাকবে না।’
তিনি এই সরকারকে নতজানু সরকার আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বন্ধুদের সমর্থন ছাড়া এই সরকারে টিকে থাকা কঠিন। বন্দুক-পিস্তল নিয়ে তাদের টিকে থাকা কঠিন হবে। তারা চাইবে যে, সামনে নির্বাচনের আগে সেইটাকে যদি কোনো রকম আরও শক্তিশালী করতে পারে।’
বিএনপি মহাসচিব বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের দেশগুলো তাদের ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী মানুষ। এই আওয়ামী লীগ সরকার সেই গণতন্ত্র কেড়ে নিয়েছে এবং প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা, মানুষের অধিকারকে হত্যা করছে, তারা বিরোধীপক্ষকে হত্যা করছে। সেই সরকারের সমর্থনে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আসবে এটা আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি যে, সমস্ত গণতান্ত্রিক বিশ্ব জনগণের যে সংগ্রাম, মহান ঐতিহ্যবাহী যে সংগ্রাম গণতন্ত্রের পক্ষের যে সংগ্রাম তাকেই সমর্থন করবে।’
মির্জা ফখরুল বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। কারণ এই নির্বাচন কমিশনকে আমরা মানি না। আমরা বলেছি যে, এই কমিশনটাও ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক। কারণ আমরা বার বার বলে এসেছি যে, নির্বাচন কমিশন দিয়ে নির্বাচন হবে না।’
নির্বাচন করতে হলে এখানে একটা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে বলেও মনে করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালে যদি নির্দলীয় সরকার না হয় তাহলে অতীতে যে সমস্ত নির্বাচন কমিশন কাজ করেছে, তাদের যে হাল হয়েছে এদের সেই একই হাল হবে। তারা কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সেই কারণে এই নির্বাচন কমিশন কী বললেন না বললেন তাতে আমাদের জাতির খুব একটা যায় আসে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই-এই ফ্যাসিবাদী বেআইনি জবর দখলকারী সরকারকে সরিয়ে একটা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, সংসদ বিলোপ করা এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা।’
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি জিয়াউর রহমান কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।
এ সময়ে বিএনপি আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আকরামুল হাসান, মহানগর বিএনপির আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, যুব দলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর এসএম জিলানী ও রাজীব আহসানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় বিএনপি। সর্বশেষ কমিটি ছিল মোস্তাফিজুর রহমান ও আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে।
প্রবা/আরকে