দীপক দেব
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১২:০৫ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১২:০৯ পিএম
বৈঠকে ১৪ দল। ফাইল ফটো
আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি কোনো রাজনৈতিক দলকে ১৪ দলীয় জোটে নিতে আপত্তি তুলেছেন জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতারা।
সোমবার (১৩ মার্চ) বিকালে ১৪ দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রসঙ্গটি উঠলে জোটের নেতারা বলেছেন, যারা জোটে আসতে চাচ্ছে সেসব ইসলামি দলের বেশিরভাগই স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অন্যদিকে ১৪ দলীয় জোট হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি আদর্শিক জোট। ইসলামি দলগুলোকে জোটে নিলে ১৪ দলের মূল আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আওয়ামী লীগ চাইলে মহাজোটের আদলে তাদের নিয়ে নির্বাচনী জোট করতে পারে, ১৪ দলের সঙ্গে নয়।
রাজধানীর ইস্কাটনে জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর বাসভবনে ১৪ দলের বৈঠকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এসব কথা বলেছেন বলে জানান শরিক দলের নেতারা। সভায় উপস্থিত ১৪ দলের একাধিক সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এমন তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আমির হোসেন আমু। উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড. শাহদাত হোসেন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বিএসডি) আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু শরিক দলগুলোকে জানান, আগামী নির্বাচনের আগে ইসলামি দলগুলোকে সরকারের পক্ষে রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। জোটে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সরকারের সঙ্গে জোট গড়তে ইসলামি দলগুলোর অনেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমির হোসেন আমুর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।
তিনি বলেন, যেসব ইসলামি দলের যোগাযোগের কথা শোনা যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এদের জোটে নিলে ১৪ দলের মূল আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নজিবুল বশরের এই বক্তব্যের সঙ্গে ১৪ দলের একাধিক নেতা সমর্থন করেন।
বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আওয়ামী লীগের এককভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই শান্তি সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু করেছে। এতে ১৪ দলের শরিকদের কোথাও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। আমরা বুঝতে পারছি না, নির্বাচন আওয়ামী লীগ একাই করবে কি না। আমরা চাই ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু হোক।
বৈঠকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথা বলেন জোটের নেতারা। নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, একটি চিহ্নিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কাছে দেশ জিম্মি, আমরাও জিম্মি। এদের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সরকার এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে তারা সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করতে পারবে না।
নজিবুল বশরের এই বক্তব্যের সঙ্গে এমমত পোষণ করে একাধিক নেতা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে মানুষ আর ইউক্রেন যুদ্ধের কথা শুনতে চায় না। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া বলেন, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন আর নির্বাচন করতে চান না- এমন ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার ছেলেকে সেখানে নির্বাচন করাতে চান। সেখানে তার ছেলেকে কেন? এই আসনটিতে আমাকে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হোক। এর উত্তরে আমির হোসেন আমু বলেন, এ বিষয়ে আপনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন। আসনের বিষয়গুলো নিয়ে দ্রুত ১৪ দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন জোটের নেতারা।
বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু ১৪ দলকে হালুয়া রুটের দল নয় দাবি করে বলেন, ‘১৪ দল আদর্শিক দল। এখানে কোনো ফাটল নেই। যেহেতু আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, অনেক দল অনেক কিছু পায়নি, তারপরও জোটে আছে। ১৪ দল নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর আমলেও থানা লুট, পাটের গুদামে আগুন, এ রকম ঘটনা ঘটেছে।’ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এসব ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করে আনার দাবি জানানো হয় বৈঠক থেকে।