সৈয়দ ঋয়াদ
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম
এলডিপি, কল্যাণ পার্টি ও বিকল্প ধারা। ছবি কোলাজ
২০০৭ সালের এক-এগারোর প্রেক্ষাপটের আগে-পরে আত্মপ্রকাশকারী দলগুলোর মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, অলি আহমেদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি বিশেষভাবে আলোচিত। ভোটের মাঠে সক্ষমতা দেখাতে না পারলেও রাজনীতির মাঠে বড় দলগুলোর কাছে বরাবরই বেশ গুরুত্ব পেয়েছে দলগুলো।
রাজনৈতি বিশ্লেষকদের মতে, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশের রাজনীতিতে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি উত্থান ঘটানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল; সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ছেড়ে হেভিওয়েট কয়েক নেতা দল গড়েছেন। সেসব বড় নেতা তখনকার ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে দল গড়লেও মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। তাই বহু স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গড়ে তোলা সেসব নির্বাচনী রাজনীতিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ভোটে নেই, জোটে আছে এলডিপি
বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী নেতা অলি আহমেদের এলডিপিওকেও তেমনই এক উদ্যোগ বলা যেতে পারে। বিকল্প ধারাকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৬ সালে এলডিপি গঠন করেন অলি। তৎকালীন বিএনপির সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন মন্ত্রী-সংসদ সদস্য যোগ দেন তার দলে। আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে পরবর্তীতে এলডিপি থেকে সরে যায় বিকল্প ধারা। নৈতিক নানা কারণ দেখিয়ে বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গড়া অলি আহমেদ কয়েক বছরের মধ্যে আবার বিএনপির সঙ্গেই জোটবদ্ধ হয়েছেন।
বিএনপির সঙ্গে ভেড়ার আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে ‘ভোট বিপ্লব’ ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে ১৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এলডিপি। অলি আহমেদ একাই প্রার্থী হয়েছিলেন দুটি আসনে (চট্টগ্রাম ১৩ ও ১৪)। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন একটিতে (চট্টগ্রাম-১৩)। বাকিদের মধ্যে ১১ প্রার্থীই ভোটের হিসাবে তিন অঙ্কের ঘর ছুঁতেও পারেননি।
ওই নির্বাচনে ১৮ আসন মিলিয়ে এলডিপির ছাতা প্রতীকে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৯টি। অলি একাই পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪৮ ভোট। বাকি ১৬ প্রার্থী মিলে পেয়েছেন মাত্র ৪৭ হাজার ২৩১ ভোট। কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির প্রার্থী হয়েছিলেন দলটির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদÑ যিনি বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন এবং এর আগে ওই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্ত ওই আসন থেকে ছাতা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে মাত্র ১৪ হাজার ২৭৬ ভোট জুটেছে তার কপালে। যা ওই আসনের মোট ভোটের মাত্র ৮ শতাংশ।
ভোটের মাঠে মুখ থুবড়ে পড়লেও রাজনীতির আলোচনার টেবিলে ঠিকই গরম রেখেছে এলডিপি। ২০১২ সাল থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে আছে দলটি। মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ফের সরব হয়েছেন এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ ছাড়া প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এলডিপি। এ ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো লক্ষ্য নেই।’
আগামী নির্বাচনে একক নাকি জোটগতভাবে অংশ নেবে এলডিপি সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অলি আহমদ। কতগুলো আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তা নিয়েও কথা বলেননি তিনি।
তবে এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের দাবি, আগামী নির্বাচনে তারা অন্তত ২৫টি আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুত।
এদিকে ২০১৯ সালে এলডিপির নতুন কমিটি থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে বাদ দেওয়া হয়। পরে আবদুল করিম আব্বাসীকে সঙ্গে নিয়ে ‘বাংলাদেশি এলডিপি’ নামে পৃথক দল গঠন করেন সেলিম। মূল অংশের মতো এই অংশটিও সাংগঠনিকভাবে রুগ্ণ দশায় আছে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন নেই বাংলাদেশ এলডিপির। তবে বিএনপি জোটে আছে তারাও।
নির্বাচনী পরিকল্পনা জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা নিবন্ধন জটিলতায় পড়েছি। সব ধরনের কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন থেকে অবাস্তব কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। আমরা শর্ত পূরণ করার চেষ্টা করছি, তবে কিছু শর্ত পূরণ করা মোটেও সম্ভব নয়।’
কল্যাণ পার্টি এখন ‘অনেক পরিণত’
এক-এগারোর প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া আরেকটি আলোচিত দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির ঘটলেও আগামী নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। বর্তমানে বিএনপি জোটে থাকলেও আগামী নির্বাচনে এককভাবে ৫০ আসনে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি। ইব্রাহিমের দাবি, গত ১৫ বছরে কল্যাণ পার্টি রাজনৈতিক দল হিসেবে যথেষ্ঠ পরিণত হয়েছে। তবে সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল পর্যায়ে কল্যাণ পার্টির সক্ষমতা নেই বললেও চলে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি ২০০৮ সালে ইসির নিবন্ধন পেয়ে ওই বছরের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় এককভাবে। প্রতীক ছিল হাতঘড়ি। ৩৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে সব মিলিয়ে মাত্র ২১ হাজার ৬০৯ ভোট পায় কল্যাণ পার্টি। যা দেশের মোট ভোটের মাত্র দশমিক শূণ্য ৩ শতাংশ। বলা বাহুল্য, প্রতিটি আসনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন দলটির প্রার্থীরা। সৈয়দ ইব্রাহিম একাই তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এর মধ্যে একটি আসনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। কল্যাণ পার্টির বেশিরভাগ প্রার্থী ভোটের হিসেবে তিন অঙ্কের ঘর পেরোতে পারেননি।
২০১৪ সালে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে কল্যাণ পার্টি। ২০১৮ সালে মাত্র দুজন প্রার্থী দিয়েছিল তারা।
আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে সৈয়দ ইব্রাহিম জানান, যদি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় এবং কল্যাণ পার্টি যদি জোটবদ্ধ না হয়Ñ তাহলে ৫০টি আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির ইতিহাস নিয়ে চিন্তিত নন ইব্রাহিম। তার ভাষায়, ‘তখন আমাদের বয়স ছিলো খুবই কম, আমরা একটি নবীন দল হিসেবে বাঘ এবং সিংহের মাঝ খানে দাঁড়িয়েছিলাম। গত ১৫ বছরে আমরা অনেক বেশি পরিণত। কল্যাণ পার্টি ও সৈয়দ ইব্রাহিমকে এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, ভরসা করে।’
এর মধ্যে কতোটি আসনে জয়ের প্রত্যাশা আছে; সে বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক এই সভাপতি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত নির্বাচনে ভালো করতে পারিনি সেটা বড় কথা নয়। তখন দল হিসেবে নবীন ছিলাম। কল্যাণ পার্টির একটা ভিশন আছেÑ তরুণ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব। খারাপের বিপরীতে ভালো প্রার্থী দেওয়ার সুযোগটা আমরা মানুষকে দিচ্ছি।’
২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পরই এ,কিউ,এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল বিকল্প ধারা। দলটির সভাপতি নির্বাচতি হন বি. চৌধুরী নিজে, আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাতি হন মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচতি হন বদরুদ্দোজার চৌধুরীর পুত্র মাহি বি. চৌধুরী। ভোটের রাজনীতিতে গত দের দশকে সতন্ত্র দল হিসেবে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি বিডিবি। বিএনপি বা আওয়ামী জোটের বাইরে জনপ্রিয়তা আছে সেই প্রমাণও রাখতে পারেনি।
‘তিন নেতার দল’ বিকল্প ধারা
গত দেড় দশকে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারেনি বিকল্প ধারা বাংলাদেশ (বিডিবি)। মাঠপর্যায়েও তেমন কোনও তৎপরতা নেই দলটির। তারপরও আগামী নির্বাচনে ২০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে বিকল্প ধারা।
অবশ্য ভোটের হিসেবে পিছিয়ে থেকেও অন্য ছোট দলগুলোর তুলনায় নির্বাচনী কৌশলে অনেকটাই এগিয়ে আছে বিকল্প ধারা। জোটবদ্ধ ভোট করে গত নির্বাচনে দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিকল্প ধারার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে দুজন। তারা হলেন দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান (লক্ষ্মীপুর-৪) ও যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী (মুন্সিগঞ্জ-১)।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অন্তত ২০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা চিন্তা করছে বিকল্প ধারা। মহাজোটর সঙ্গে গত নির্বাচন করেছি। ছোট ছোট সাত-আটটি দল রয়েছে আমাদের সঙ্গে। তাদের নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবো।’
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে ২০০২ সালে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে এবং তারপর দল থেকেও পদত্যাগ করেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন এই নেতা ২০০৪ সালে বিকল্পধারা গঠন করেন। দলের মহাসচিব হন বিএনপি থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল মান্নান। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে রাজনৈতিক দল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও শেষপর্যন্ত সাড়া জাগাতে পারেনি বিকল্পধারা।
এজন্য শীর্ষ নেতাদের নিষ্কিয়তাকে দুষছেন দলের নেতারা। তারা জানান, গত পাঁচ বছরে ঠিকভাবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাও হয়নি। মাঠপর্যায়ে কোনও কার্যক্রম নেই বললেই চলে। বছরব্যাপী কর্মসূচি নিয়ে কোনও পরিকল্পনাও হয়না। কারও মতামতও নেওয়া হয় না। অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণে প্রবীণ নেতারাও ক্ষুব্ধ। নেতাকর্মীদের কাছে বিকল্প ধারা এখন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল।
বিকল্পধারার স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, এর আগে সবসময় ঢাকা থেকে নির্বাচন করলেও ২০১৮ সালে লহ্মীপুর-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন আবদুল মান্নান। এরপর গত চার বছরে নির্বাচনী এলাকার বিশেষ কোনও খোঁজ-খবরও রাখেননি তিনি। বছরে কয়েকবার হেলিকপ্টারে করে সেখানে যান এবং হেলিকপ্টারে করেই ফিরে আসেন। স্থানীয় নেতাকর্মী বা ভোটারদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগও নেই তার।
একই পরিস্থিতি মুন্সিগঞ্জ-১ আসনেও। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহি বি চৌধুরী ২০১৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে এমপি হন। এর আগে ২০০২ ও ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে যথাক্রমে বিএনপি ও বিকল্পধারার প্রার্থী হিসেবে দুইবার এ আসন থেকে এমপি হন মাহি। দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে থাকলেও দলীয় কার্যক্রম নিয়ে তার কোনও তৎপরতা নেই। এ কারণে দলের প্রতিষ্ঠাতার নিজ জেলা হওয়ার পরও মুন্সিগঞ্জে অবস্থান তৈরি হয়নি বিকল্প ধারার। এই জেলায় নেই দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। জেলা তো দূরের কথা বিকল্প ধারার কেন্দ্রীয় কমিটিই দেড় যুগে পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ দলের মহাসচিব মান্নান। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের বেশিরভাগ নেতা জ্যেষ্ঠ, যে কারণে সবাই সক্রিয় নয়। তবে অনেক সক্রিয় সদস্য কাজ করে চলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে আগে ২২ জন সক্রিয় ছিল, এখন সম্ভবত ১৫ জন সক্রিয় আছেন। জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলো নিয়ে কাজ করছি।’