× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তাদের এত গুরুত্ব কেন

রাজবংশী রায়

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ১০:১৪ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলেছে সময়ের কাঁটা। যত দিন গড়াচ্ছে, ততই রাজনীতির মাঠ সরগরম হচ্ছে ভোটের হাওয়ায়। বেশকিছু ইস্যুতে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীদের টানাপড়েন চলছে। আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধানের বাইরে একচুলও নড়বে না। বিএনপির বক্তব্য, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে ছোট ছোট দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও। দুই দলই ছোট ছোট দলকে যতটা বেশি করে সম্ভব নিজ নিজ জোটে পেতে চাইছে। যেসব দল এখনও জোটের বাইরে তাদের কাছে টানতে মরিয়া বড় দল দুটি। চলছে ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়া। আবার ছোট দলগুলোও তাদের গুরুত্ব প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সামরিক শাসনামল বাদ দিলে আওয়ামী লীগ-বিএনপিই মূলত ঘুরেফিরে সরকার গঠন করছে। সিংহভাগ ভোট তাদের নিয়ন্ত্রণে। আরও দুই দল জাতীয় পার্টি ও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামী মিলে ১০ থেকে ১১ শতাংশ ভোটব্যাংক রয়েছে। এর বাইরে ছোট ছোট বাম ও ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো মিলে ২ থেকে ৩ শতাংশ ভোট রয়েছে। নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। শেষ সময়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে যায়। জামায়াত এখনও রয়েছে বিএনপির সঙ্গেই। এ দুই দল বাদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য দলগুলোর ভোটব্যাংক নেই। হাতেগোনা কয়েকটি দল ৫ থেকে ৬টি আসনে জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্য দলগুলোর সে ক্ষমতাও নেই। বেশিরভাগই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থনের পাশাপাশি প্রতীকও ব্যবহার করে। 

তারপরও কেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই ‘ছোটদের’ এতটা গুরুত্ব দিয়ে জোটে রাখতে চায়Ñ এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদের সঙ্গে। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জোটে বামপন্থি দলগুলোর আধিক্য বেশি। এর বাইরে দুটির মতো ইসলামি দল আছে। তারাও কট্টরপন্থি নয়। আর বিএনপির জোটে ডানপন্থি দলগুলোর আধিক্য লক্ষ করা যায়। ইসলামি দলগুলোর বাইরে থাকা মধ্যপন্থি দলগুলোও কট্টর। অর্থাৎ দেশের রাজনীতি মূলত এ দুই ধারায় বিভক্ত। এ দলগুলোর আরও কয়েকটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বাম ধারার দলগুলোর নেতারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। শিল্প-সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বলয়গুলোর নেতৃত্বও তাদের হাতে। রাষ্ট্রে এ বিষয়টির গুরুত্ব অনেক। বিশ্বের বড় দেশগুলোর সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সফরে এলে সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন। এতে বামপন্থি ছোট দলগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছেÑ এমন ব্যক্তিরা আমন্ত্রণ পান। ফলে তাদের মাধ্যমে দেশের অবস্থানগত বিষয়গুলো বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছে পৌঁছায়। অপরদিকে ইসলামি দলগুলোর প্রতিও মানুষের এক ধরনের আগ্রহের জায়গা রয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ আছে। এ কারণে ভোটব্যাংক না থাকলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন সাব্বির আহমেদ। 

ফ্যাক্টর বন্ধু রাষ্ট্র

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, সাম্যবাদী দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে প্রভাবশালী একটি বন্ধু রাষ্ট্রের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দল হিসেবে সাম্যবাদী দলের একটি আসনেও জয়ী হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ওই নেতা সঙ্গে থাকলে ওই দেশটির সমর্থন পাওয়া সহজ হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির তিন থেকে চারটি আসনে কিছুটা ভোটব্যাংক রয়েছে। কিন্তু এককভাবে নির্বাচন করে জয়ী হতে তা যথেষ্ট নয়। তবে সাম্যবাদী দলের মতো ওই একই বন্ধু দেশের সমর্থন পাওয়া সহজ হয় তারা সঙ্গে থাকলে। 

জাসদের ওপরও আরেকটি বন্ধু রাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। তবে কোনো জোটে না থাকা সিপিবি-বাসদের যে বন্ধু রাষ্ট্র, সেখানে তাদের আদর্শের দল সরকারে নেই। এ কারণে ওই রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ খুব একটা জোরালো নেই। অন্যদিকে একটি ইসলামি বন্ধু রাষ্ট্র থেকে জামায়াতে ইসলামী আগে যে ধরনের সহায়তা পেত, ক্ষমতার পালাবদলে এখন আর তেমনটা নেই। তবে অন্য একটি ইসলামি বন্ধু রাষ্ট্র জামায়াতকে সহায়তা করে যাচ্ছে। কারণ, ওই দেশে তাদের সমমনা দল সরকারে আছে। ওই দেশটির নেতৃত্বে আরও কয়েকটি ইসলামি রাষ্ট্র থেকে জামায়াত সহায়তা পাচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কয়েকজন জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড ও সাজা এবং দলটির নিবন্ধন বাতিল হওয়ার ঘটনায় রাজনীতির মাঠে এখন তারা অনেকটাই কোণঠাসা। আগে জামায়াতকে সহায়তা করা ইসলামি বন্ধু রাষ্ট্রটি চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। এভাবে ছোট ইসলামি দলগুলো সহায়তা পাচ্ছে। আবার আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যেও ওইসব বন্ধু রাষ্ট্রে ঘনিষ্টজন আছে। 

জোট রাজনীতির সূত্রপাত যেভাবে

দেশে জোটের রাজনীতির সূত্রপাত ঘটে ২০০১ সালের নির্বাচনে। ওই সময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামীসহ চারটি দল একজোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। একশ’র কাছাকাছি আসনে জামায়াতের ভোট বিএনপি প্রার্থীর জয়ে সহায়তা করেছিল। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ওইসব আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ২ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির থেকে এগিয়ে ছিল। কিন্তু জামায়াতের ভোট বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে যোগ হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় হয়। মূলত এরপর থেকেই জোটের রাজনীতি গুরুত্ব পেতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ প্রথমে ১৪-দলীয় জোট গঠন করে। পরে জাতীয় পার্টিসহ আরও তিনটি দল যুক্ত করে ১৮টি ছোট-বড় দল মিলে মহাজোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই জোট নিয়ে তারা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ২৬৩টি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় যায়। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে এলেও মহাজোটের কাছে পরাস্ত হয়। জোট বেঁধে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচন এলে বাড়ে সক্রিয়তা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোট-ভাবনায় দলগুলো সক্রিয় হতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪-দলীয় জোট টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু বেশকিছু বিষয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আবার বিএনপি জোট থেকেও কেউ কেউ বের হয়ে আওয়ামী লীগ জোটে যাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ৫৪টি দল নিয়ে আন্দোলনে রয়েছে বিএনপি। সমমনা দলগুলোকে তারা এক কাতারে আনার চেষ্টা করছে। এমনকি আওয়ামী লীগ জোটে থাকা ছোট ছোট দলকেও তারা জোটে পেতে চাইছে। আবার আওয়ামী লীগও বিএনপির জোটসঙ্গী কাউকে কাউকে নিজেদের জোটে আনতে তৎপর রয়েছে। বিএনপির জোটে থাকা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাম্প্রতিক গতিবিধিই তার প্রমাণ। তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগের জোটে থাকা জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশটিকে বিএনপি তাদের জোটে পেতে চাইছে। একইসঙ্গে সংসদে বিরোধী দল হলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সুসম্পর্কের বিষয়টি সবারই জানা। বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টিকে জোটে পেতে চায় আওয়ামী লীগ। আগামী দিনগুলোতে জোটের এই ভাঙা-গড়ার খেলা চলতে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির বাস্তবতায় সব সময়ই ছোট দলগুলো কমবেশি সক্রিয় ছিল। মূলত দুটি কারণে ছোট দলগুলোর সক্রিয়তা এখনও আছে। এক. রাজনৈতিক আদর্শিক কারণ। দুই. এক ধরনের রাজনৈতিক লভ্যাংশ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। রাজনীতিতে ছোট দলগুলোকে জোটে টানার বিষয়ে মতাদর্শিক বিষয়টিই প্রাধান্য পায়। এর মধ্যে বড় যে দলের সঙ্গে মতাদর্শগত মিল থাকে ছোট দলগুলো সেখানেই ভিড়ে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ধারণ করে। আর বিএনপির ক্ষেত্রেও মতাদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন দলগুলোই তাদের জোটে আছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতে থাকলে এ ধরনের ছোট দলগুলো বেশি সক্রিয় হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে জোটের রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত দুই ধারায় বিভক্ত। নিজেদের জোট ভারী করতে দু’পক্ষই সক্রিয়। এ ছাড়া বেশি দল নির্বাচনে এলে সরকার বলতে পারবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। আবার বেশিরভাগ দল নির্বাচনে না এলে সেটি অংশগ্রহণমূলক হয়নিÑ এমনটা বলতে পারবে বিএনপি-জামায়াত। এ কারণে নির্বাচনের আগে ছোট ছোট দলের গুরুত্ব বাড়ে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা