× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রসঙ্গ খালেদা জিয়ার রাজনীতি

ক্ষমতাসীনদের বক্তব্যে ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিএনপি

বাছির জামাল

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:৩১ পিএম

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:৫০ পিএম

ফাইল ফটো।

ফাইল ফটো।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে এক ধরনের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে বিএনপি। এজন্য এসব বক্তব্য-বিবৃতিকে পর্যবেক্ষণ করবে দলটি। স্পর্শকাতর হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ধরনের জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির নেতারা।

খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম গত জানয়ারি মাসে ‘খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে না পারার বিষয়টি’ সামনে নিয়ে আসেন। ২৬ জানুয়ারি সংসদে তিনি দাবি করেন, ‘খালেদা জিয়া রাজনীতি করবেন না- এমন মুচলেকা দিয়েছেন।’ যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘সেলিমের এ দাবি সত্য নয়।’ এ বিষয়ে পরে সরকারপক্ষ আর কোনো কথা বলেনি। তবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার জন্ম দেয়। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল ‘মুক্তি’ দেয় সরকার। তখন দেশে করোনাভাইরাস মহামারি চলছিল। ওই সময় যে দুটি শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারবেন না, দেশে থেকে বাসায় চিকিৎসা নেবেন। এর পর থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাস পরপর তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় জুডিসিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জেএটিআই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘অসুস্থতার গ্রাউন্ডে দুটি শর্তে তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা হয়েছে। তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না বা রাজনীতি করা থেকে বন্ধ থাকতে হবেএ রকম শর্ত সেটার (খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে করা আবেদন) মধ্যে ছিল না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার একুশে গ্রন্থমেলায় বলেছেন, ‘নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে চাইলে তাকে দেওয়া শর্ত মেনে চলতে হবে।’ অবশ্য কী সেই শর্ত, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি তিনি।

সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর এই বক্তব্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। সোমবারের নিয়মিত বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সব সদস্যই আলোচনায় অংশ নিয়ে মতামত দেন বলে জানা গেছে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির সব সদস্য প্রায় একমত যে, সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন যখন ঘনীভূত হচ্ছে, তখন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারা না-পারা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিএনপির কাছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই সময়ে আওয়ামী লীগ এ রকম একটি স্পর্শকাতর বিষয় বাজারে ছেড়ে দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নেওয়ার কৌশল নিয়ে থাকতে পারে। 

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এও মনে করেন, সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন ও মানবাধিকার প্রশ্নে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কূটনীতিকদের ঘন ঘন সফরে সরকার এক ধরনের চাপে রয়েছে। এ চাপ কিছুট হালকা করতে এমন কৌশল নিয়ে থাকতে পারে ক্ষমতাসীন দল। তবে সরকারের আসল উদ্দেশ্য সামনের দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। এজন্য ক্ষমতাসীনদের এসব বক্তব্যের কোনো জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সব সদস্যই একমত পোষণ করেন। তারা সরকারি দলের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকের আগে সোমবার সকালে ক্ষমতাসীনদের ওই বক্তব্য সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘উনারা তো অনেক কথাই বলেন সময় সময়। কখন কী মতলবে কী বলেন, এটা তারাই বলতে পারবেন।’ স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত, আমরা কোনো কথা বলব না।’ 

কাল থেকে দলের নিষ্ক্রিয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক

সরকারবিরোধী আন্দোলন বেগবান করতে দলের নিষ্ক্রিয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিএনপি। নানা কারণে রাগে-ক্ষোভে এবং অভিমানে যেসব জনপ্রতিনিধি দূরে আছেন, তাদেরকে স্বক্রিয় করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এর অংশ হিসেবে আগামী  বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রংপুর বিভাগের বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠক করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারিতে অন্য বিভাগের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। তবে রমজান শুরুর আগে অর্থাৎ ১৬ মার্চে এই মতবিনিময় সভা শেষ হবে। প্রত্যেকটি বৈঠকে আড়াইশ জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলবেন তারেক রহমান। এরপর এপ্রিল মাসেও তারেক রহমানের দলীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। 

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, এ প্রক্রিয়ায় ১৯৯১ এবং ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির সমর্থনে বিজয়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন (ইউপি) চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রায় ৪ হাজার জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বিভাগভিত্তিক বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড। 

২৯ জানুয়ারি থেকে এ তালিকা তৈরির জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১০ বিভাগে সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে পৃথক টিমও গঠন করা হয়। যার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। এ ব্যাপারে তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘তৃণমূল থেকে দলকে সংগঠিত করতে অনেকের অবদান আছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেকেই নিষ্ক্রিয় আছেন। বিএনপির সমর্থনে এমন অনেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এখন তাদেরকে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত করতে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’  এর বাইরে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা