প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২২ ১৮:২২ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২ ২৩:৩৯ পিএম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি : প্রবা
সারা দেশে আন্দোলনের নামে বিএনপি সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক ও নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে। তবে সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনো সুযোগ বিএনপিকে দেওয়া হবে না। সরকার জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।’
সোমবার (২৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ধৈর্য নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ ও গণতান্ত্রিক ঔদার্য নিয়ে সহনশীল আচরণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এই সুযোগে বিএনপি তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী মাঠে নামিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে ধারাবাহিকভাবে উসকানি দিচ্ছে। এ কাজে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাদের মাঠে নামিয়েছে বিএনপি।’
বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি দেশে হত্যা-ক্যু ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। বিএনপির জন্মই হয়েছে নিষ্ঠুর স্বৈরশাসনের গর্ভে। ষড়যন্ত্রের পথ বেয়ে বন্দুকের নলের মুখে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বিএনপি নামক দুর্বৃত্তায়নের সাংগঠনিক চক্র সৃষ্টি করে।’
তিনি বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক আচরণ দেখে মনে হয়, তারা তাদের অতীতের এই হীন কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত নয়; বরং তারা হত্যা ও খুনের রাজনীতিকে উসকে দেওয়ার জন্য স্লোগান দেয়--‘৭৫-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’ এবং ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে দুঃশাসনের অন্ধকার যুগে তারা বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নিতে চায়।’’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় যেমন রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল, অপরদিকে বিরোধী দলে থেকে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে শত শত নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকাকালে তারা হাওয়া ভবন খুলে বাংলাদেশকে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন ও স্বেচ্ছাচারিতার অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল; দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে টানা পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে লালন-পালন করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। সে কারণে বিএনপি যেকোনো নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায়। তাদের ষড়যন্ত্র ও অপকৌশল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা না দেখলে তারা নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করে না। অন্যদিকে পলাতক আসামি তারেক রহমান ও বিএনপি হাওয়া ভবনের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর দ্বারা বিদেশে অর্থ পাচার করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে ব্যবহার করছে; দেশের অগ্রগতি ও জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যয় করছে। সেই অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে অপপ্রচার, গুজব, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা মহামারি ও ইউরোপে যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ভয়াবহ অভিঘাতে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার যখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সংকট মোকাবিলায় নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি তথাকথিত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে; দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’
বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকার জনগণের জানমাল রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।’
প্রবা/আরকে/এমজে