প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:২২ পিএম
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:২৬ পিএম
২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর কথা বলছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রবা ফটো
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি ও সংসদীয় দলের নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর সংসদীয় দল যে দায়িত্ব দিয়েছিল তার আলোকেই এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সভাপতি, সংসদীয় দলের নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় দল যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, তার আলোকে তিনি এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।’
কাদের বলেন, সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন আইনজীবী। আওয়ামী লীগের বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য। তিনি ১৯৪৯ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইতোপূর্বে জেলা সিনিয়র দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলের মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের জানান, তিনি ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনি দীর্ঘ তিন বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১৯৮২ সালে তিনি বিসিএস বিচার বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশেনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।
‘তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নিয়োজিত থেকে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালে সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি জামাত জোটের নেতাকর্মীদের দ্বারা সংগঠিত হত্যা, লুন্ঠন এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানে দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’
তিনি ছাত্র জীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৩ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে সংগঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর কারাবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্র সন্তানের পিতা। তার স্ত্রী প্রফেসর ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব ছিলেন।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপস্থিত ছিলেন দলীয় সংসদ সদস্যরা।
জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহাবুদ্দিন চুপ্পেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন তা অনেকটা নিশ্চিতই।
যে কারণে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি: যেহেতু বর্তমাস সংসদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে আওয়ামী লীগের তাই দল থেকে মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন তা নিশ্চিত ছিল আগেই। বর্তমানে ৩৫০ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের এমপি (সংরক্ষিতসহ) রয়েছেন ৩০২ জন। গত সোমবার চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মোছলেম উদ্দিনের মৃত্যুতে আসটি শূন্য হওয়ায় সংসদ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০১।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির রয়েছে ২৬ জন এমপি। ওয়ার্কার্স পার্টির ৪, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ও গণ ফোরামের ২টি করে, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) হাতে ১টি করে আসন রয়েছে। বাকি ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। আর তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটার তালিকা নির্ধারণ হওয়ার বিধানের জন্য বিএনপি পদত্যাগ করা আসনের উপনির্বাচনের ছয় এমপি ও একজন সংরক্ষিত আসনের এমপিসহ মোট সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
সেই হিসেবে অন্য কোনো দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হলেও বিজয়ী হওয়ার মতো ভোটার না থাকায় আওয়ামী লীগ থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।