সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৫৩ পিএম
একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম সংসদ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদে যারা মদদ দেয়, তারা কীভাবে দেয়? আপনারা জানেন যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি ঠিকই, এর মধ্য দিয়ে আবার দেখা যায়, বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে কীভাবে বোমা বানাবে, জঙ্গিবাদ ছড়াবে সেগুলো কিন্তু দেখা যায়। এসব যদি আড়ি পাতা না যায়, আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ কীভাবে দমন করব? তাদের এই সমস্ত তথ্য আমরা কীভাবে পাব? কাজেই এ ব্যাপারে আমাদের তো ব্যবস্থা নিতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আড়ি পাতা নিয়ে অনেকে কথা বলেন, কারণটা কী? কোন রহস্যের কথা বলবেন, যেটা সরকার শুনে ফেললে সমস্যা হবে? সরকার শোনে না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাস বা এই ধরনের কর্মকাণ্ড রোধ করার জন্য যেটুকু করার সেটুকুই করে। তার থেকে বেশি আর কিছুই করে না। তারা আইনসিদ্ধ। এটা করা যায় বলেই সব দেশে আছে। সেই কারণে আমরা আজকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করতে সক্ষম হয়েছি।’
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম সংসদ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি ছয়টি উপনির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’অনেকেই বলেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। এখানে নাকি অনির্বাচিত সরকার আনতে হবে। আমার প্রশ্ন, এই যে ছয়টি উপনির্বাচন, এই নির্বাচন সম্পর্কে কেউ তো একটি কথাও বলতে পারেনি। বাংলাদেশের একজন মানুষও কি এই নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পেরেছে? তুলতে পারেনি। তবে কিছু লোক আছে, তাদের সব সময় উল্টো কথা বলতেই হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ’যারা অনির্বাচিত সরকার আনতে চায়, তারা কি দেশের সংবিধান বিশ্বাস করে? গণতন্ত্র বিশ্বাস করে? তাদের কষ্টটা কোথায়? জনগণ ভালো থাকলে তাদের কষ্ট লাগে কেন? কারণ, এই দেশের মানুষগুলো দরিদ্র থাকবে, কঙ্কালসার থাকবে, হাড্ডিসার থাকবে, আর তাদের দেখিয়ে বিদেশ থেকে ভিক্ষা নিয়ে নিজেদের উদোরপূর্তি করবে, কেউ বিএমডব্লিউতে চড়বে। তাদের আমদানি কমে যাচ্ছে। সেজন্য তারা অনির্বাচিত সরকার চায়। এটা আর জীবনে হবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা যাদের, আসেন নির্বাচন করেন।’
রমজান সামনে রেখে অনেক পত্রিকা নানা কিছু লিখছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ’রমজানে খাদ্যের অভাব নেই। প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে সমস্যা নেই। এলসি খুলতেও বাধা নেই। যারা এলসি নিয়ে দুই নম্বরি করে, বাধা তাদের জন্য। রমজানে ছোলা, চিনি, খেজুর, ডাল, তেল পর্যাপ্ত আছে। আরও কেনা হচ্ছে। ১৯ লাখ টন খাদ্য মুজদ আছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’কোনো কোনো দল আন্দোলন করছে, জোট করছে, মিছিল-মিটিং করছে। বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকতে প্রতি পদে বাধা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ’অনেকেই দাবি করেন, আজকের যে উন্নয়ন সেটা নাকি কোনো কোনো বড় এনজিও করেছে। এটা ঠিক নয়। একমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং তার সঙ্গে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, যথাযথ নীতিমালা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের ফলেই সম্ভব হয়েছে।’
দারিদ্রের হার কমেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’যদি রাজনৈতিক নেতৃত্ব দ্বারা না হয়, তাহলে এর আগে হলো না কেন? তার আগে তো দেখিনি এত দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হয়। দারিদ্র বিমোচনের গালভরা বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু ফলাফল দেখিনি। ফলাফল আওয়ামী লীগ দেখাতে পেরেছে।’
চলতি অধিবেশনে ২৬ দিন বৈঠক হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের ৫ জানুয়ারি সংসদে ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। সেই ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব সংসদ গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এতে ২০৯ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।