বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০১:০৯ এএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত রাখলেও সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
১/১১-এর জরুরি অবস্থায় সরকারের বিরাজনীতিকরণের মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইনগতভাবে বারবার তার (খালেদা জিয়া) জামিনের আবেদন করা হলেও সরকারের হস্তক্ষেপে জামিন দেওয়া হয়নি। সরকারের আপত্তির কারণে আইনি সহায়তা দিতে বিদেশি আইনজীবীদেরও দেশে আসতে দেওয়া হয় নাই। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শর্তসাপেক্ষে সরকার তার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে তাকে প্রকারান্তরে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।’
দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে খালেদা জিয়ার বন্দিত্বের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ড ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হওয়ার পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকার অনুমতি দেয় সরকার। এখন পর্যন্ত ছয় মাস করে ছয় দফায় তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার দণ্ডের কার্যকারিতা আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত পাঁচ বছরে বিএনপি জোরদার কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে দমন করতে সরকার নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি খালেদা জিয়ার সব মামলা প্রত্যাহার করে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।
খালেদা জিয়ার কারান্তরীণ হওয়ার পাঁচ বছর উপলক্ষে আলাদা কোনো কর্মসূচি রাখেনি বিএনপি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দলটির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচির প্রধান দাবিই থাকে খালেদা জিয়ার মুক্তি।