প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩০ পিএম
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩৩ পিএম
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাহী আদেশে মুক্ত হয়ে গুলশানের বাসায় আছেন। সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন বলে সংসদে শেখ ফজলুল করিম সেলিম সম্প্রতি বক্তব্য দিয়েছেন। তবে মুচলেকায় রাজনীতি করতে পারবেন না এমন কোনো কথা ছিল না বলে জানিয়েছেন সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বাংলাদেশ বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ‘১১শ ওরিয়েন্টেশন কোর্সের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তার আগে মন্ত্রী আনিসুল হক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের বিচারকদের এক কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন।
‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করবেন না, এমন মুচলেকা দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে তাকে বাসায় নেওয়া হয়েছে’- জাতীয় সংসদে শেখ সেলিমের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘গত ২৬ জানুয়ারি সংসদে একজন সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা একদম ভুল না। তবে আমার যতদূর মনে পড়ে, এমন কথা ছিল না।’
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না- এমন মুচলেকার কথা নির্বাহী আদেশের মুক্তির আবেদনে ছিল না।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে যান বেগম খালেদা জিয়া। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে ওই বছরের অক্টোবরে সাজা বেড়ে দ্বিগুণ হয় বিএনপি নেত্রীর। একই মাসে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আরও ৭ বছরের সাজা হয় তার।
সব মিলিয়ে তার সাজা হয় ১৭ বছর।
২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন বিএনপির নেত্রী। তার জামিনের আবেদন বারবার নাকচ হওয়ার মধ্যে স্বজনরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তির আবেদন নিয়ে যান। আর সরকারপ্রধানের নির্বাহী আদেশে ওই বছরের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান বিএনপিপ্রধান।
সে সময় সরকার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি শর্তের কথা বলা হয়। প্রথমত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে যাবেন না। দ্বিতীয়ত, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন।
এরই মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করবেন না, এমন মুচলেকা দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে তাকে বাসায় নেওয়া হয়েছে।’
তবে ওই মুচলেকা খালেদা জিয়া নিজে দিয়েছেন নাকি তার পরিবারের সদস্যরা দিয়েছেন, তা সংসদ সদস্যের বক্তব্যে পরিষ্কার ছিল না।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১৭ বছরের সাজা হওয়ায় নির্বাচন করতে পারবেন না উল্লেখ করে ওইদিন শেখ সেলিম সংসদে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ভাই ও বোন হাসপাতাল থেকে বাসায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সরাসরি বাসায় আনা যায় না। যদি বাসায় বসে আবার রাজনীতি করে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের বললেন বাসায় গিয়ে আবার রাজনীতি করবে। সেটা তো দেওয়া যাবে না। তখন তারা মুচলেকা দিয়ে বলেছেন- খালেদা জিয়া রাজনীতি করবেন না। সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাজনীতি করবে না।’