প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩১ পিএম
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : প্রবা
রাষ্ট্রপতি কে হলো এ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। জনগণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চেয়ে বরং দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বনানীতে তার নিজ অফিসে এ কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে তার নিজের ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়- যে সরকারের জবাবদিহিতা থাকবে। এর বাইরে মানুষের কোনো আগ্রহ নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোঃ আবদুল হামিদ। আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হবে তার মেয়াদ। তবে সংবিধান অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গত মাসে নির্বাচন কমিশন তফসিল দিয়েছে, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।
বিএনপির নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, সব বাধাবিপত্তির পরও প্রথম ধাপের আন্দোলনে সফল হয়েছি। তারা (সরকার) রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। তারা যত বেশি রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হচ্ছে, তত বেশি শক্তির কথা বলছে, তত বেশি সহিংসতার কথা বলছে। তারা আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা আগুন-সন্ত্রাসের কথা বলছে। সুতরাং এতে প্রমাণ করে জনগণের সমর্থন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কাছে কোনো কিছু দাঁড়াতে পারে না।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের বিশ্বাস করছে না, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের বিদায় দেওয়ার জন্য।
১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৬টি আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। ধারণা করা হচ্ছে- বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী পক্ষ যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে ‘সাত্তার মডেলে’ আগামী দ্বাদশ নির্বাচন করার উদ্যোগ নিতে পারে ক্ষমতাসীন দল।
এ সম্পর্কে খসরু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অবৈধ দখলদার সরকারকে বিদায় করবে। জনগণকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তারা একটি নির্বাচিত সংসদ গঠন করতে চায়। এই মডেলের বিপরীতে অন্য কোনো মডেলের কাজ করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এবং বিদেশি গণতান্ত্রিক দেশের কাছে একটি মাত্র মডেল সেটি হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হবে। যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দখলদার সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এজন্য তারা ক্ষমতায় থাকতে এখানে একটি সহিংসতা চায়। তারা নিজেরা সহিংসতা করছে এবং সহিংসতা বাড়ানোর একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে চলছে। তারা আগুন-সন্ত্রাসের কথা বলেছে। কারণ, তারা বিরোধী দলে থাকতে আগুন-সন্ত্রাস করেছে, সরকারি দলে থাকতে আগুন-সন্ত্রাস করেছে, আবার এখন আগুন-সন্ত্রাসের কথা বলছে। সুতরাং এরা চাচ্ছে একটি সহিংসতা। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সহিংসতা চায় না। তারা চায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। তারা জনগণের নির্বাচিত সরকার গঠন করতে চায়। সুতরাং আন্দোলন সেদিকে চলছে।