নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:০৮ পিএম
যশোরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বহিষ্কার হওয়া চার ইউপি চেয়ারম্যানসহ ছয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাকে ক্ষমা করলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থি কার্যক্রম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা না ভাঙার শর্তে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা আওয়ামী লীগের দলীয় প্যাডে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্ষমা পাওয়া নেতারা হলেন, সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তুহিন, দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান, চাঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শামীম রেজা, রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান লাইফ, চুড়ামনকাটি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন। এর আগে বিদ্রোহী এ ছয় নেতা ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থি কার্যক্রম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা না ভাঙার শর্তে দলীয় সভানেত্রীর কাছে আবেদন করেন।
২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সদরের ১৫টি ইউপিতে নৌকার প্রার্থীরা নিজ দলেরই ৩৯ বিদ্রোহী প্রার্থীর মুখোমুখি হয়েছিলেন। অন্যদিকে ১১ ইউনিয়নে মাঠে নেমেছিলেন বিএনপির ১৪ প্রার্থী।
২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইন্ধনদাতা ২৫ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার করেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন।
ক্ষমা প্রার্থী হিসেবে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে এই চার ইউপি চেয়ারম্যানসহ ছয় আওয়ামী লীগ নেতাকে ক্ষমা করা হয়। বাকি ১৯ নেতা এখনও ক্ষমার জন্য আবেদন করেনি।
ক্ষমা পাওয়া দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর বলেন, ‘সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে যেতে চাই। দলের আদর্শ মেনেই ভবিষ্যতে পথ চলব। আমাকে ক্ষমা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
ক্ষমাপ্রাপ্ত অন্যরাও প্রধানমন্ত্রী এবং ওবায়দুল কাদেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে আবেদন করায় অব্যাহতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আগামীতে কখনও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ক্ষমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ক্ষমা করা হয়। তবে, স্বপদে বহাল করা হয়নি। যশোরের কোন কোন নেতা ক্ষমা পেয়েছেন তার নির্দিষ্ট তথ্য এখনও জেলা আওয়ামী লীগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছয়নি। তবে, কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে দলের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়েছেন।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ছয় নেতাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী। তবে বিদ্রোহীদের ইন্ধনদাতাদের ক্ষমা করবেন না বলে দলীয় সূত্রে জেনেছি। আপাতত এই ৬ নেতা ক্ষমা পেলেও দলের স্বপদে স্থান পাচ্ছেন না।’