এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্ক ঘিরে নাটকীয়তা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ০০:২৫ এএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ০০:৩২ এএম
জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বারিধারার বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্ক ঘিরে নাটকীয়তা চলছেই। এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে ওই বাড়ি থেকে তাড়াতে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগেছেন এরিক এরশাদ ট্রাস্টের কয়েকজন সাবেক সদস্য, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশীদ। তিনি আগে এরিক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রবিবার (২৩ জানুয়ারি) কাজী মামুনুর রশীদের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি পাঠানো হয় বিদিশার কাছে। চিঠিতে বিদিশা সিদ্দিককে এরিক এরশাদ ট্রাস্টের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ভোগদখল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত তাকে প্রেসিডেন্ট পার্ক ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। নইলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় চিঠিতে।
এ প্রসঙ্গে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিদিশা বলেন, ওই চিঠির নির্দেশনা তিনি গ্রাহ্য করছেন না। চিঠি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা জানান তিনি।
মামুনুর রশীদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের করা রেজিস্ট্রার দলিলের তফসিল অনুযায়ী এরিক ট্রাস্টের কোনো সম্পত্তি বিদিশা ভোগদখল বা ব্যবহার করতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিদিশা জোর করে প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকছেন এবং ট্রাস্টের পাঁচটি গাড়ি তিনি ও তার দলীয় লোকজন ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, এই গাড়িগুলোর মাধ্যমে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হলে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ কোনো দায় নেবে না, বিদিশাকেই সব দায়ভার নিতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত প্রেসিডেন্ট পার্ক না ছাড়লে বিদিশার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।
এরশাদ মারা যাওয়ার আগে নিজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলে এরিক এরশাদের দেখভালের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। ট্রাস্টে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা এফডিআর করা আছে। তা থেকে মাসে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া ট্রাস্টের অধীনে থাকা গুলশান ও বনানীর দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রতি মাসে যথাক্রমে ৪৫ হাজার টাকা ও ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। গুলশানের একটি দোকান থেকে আসে মাসিক ২ লাখ টাকা। এ ছাড়া রংপুরে ট্রাস্টের অধীন একটি কোল্ডস্টোরেজ থেকে বছরে ৩০ লাখ টাকা আয় হয়। ট্রাস্ট্রের মাধ্যমে এরিক এসব সম্পদের সুবিধাভোগী।
গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এরিক এরশাদ ট্রাস্ট নিয়ে বিদিশা ও মামুনুরের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বের জেরে মামুনুরকে অপসারণ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তানভীর ইকবালকে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর থেকে কাজী মামুনুর রশীদ ও সাবেক ট্রাস্টিরা মিলে বিদিশার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গত ১৮ জানুয়ারি এমনই এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিদিশা অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট পার্কে ঢুকে নানা অপকর্ম করছেন। এরিক তাই আর বিদিশার সঙ্গে থাকতে রাজি নন। ট্রাস্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিরতা ও স্থবিরতার জন্যও বিদিশা ও তার আশীর্বাদপুষ্ট লোকজনকে দায়ী করা হয়।