প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:১৭ পিএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২৩:৫০ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এরশাদ ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদের সংবাদ সম্মেলন। প্রবা ফটো
এরশাদ ট্রাস্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিরতার পেছনে বিদিশা সিদ্দিক ও তার আশির্বাদপুষ্টদের দায়ী করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ। এ ছাড়া, মা বিদিশার কাছে এরিক এরশাদ নিরাপদ নন বলেও জানান কাজী মামুন।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক তার মা বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে থাকতে রাজি নন।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান, শামসুজ্জামান মুকুল ও ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর।
কাজী মামুন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার প্রবেশের সময় এরিকের বয়স ছিল ১৮ বছর। বর্তমানে তার বয়স ২২। এরিক শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ও সামর্থ্যবান। তাই এখন তিনি আর মা বিদিশার সঙ্গে থাকতে রাজি নন।’
তিনি বলেন, ‘এরিক তার মা বিদিশার কাছে কোনোভাবেই নিরাপদ না। তার কাছে এরিক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাস্টের অর্থের লোভ-লালসা থেকে অবৈধভাবে এখনও প্রেসিডেন্ট পার্কে আছেন বিদিশা।’
কাজী মামুন সংবাদ সম্মেলনে এরিকের সঙ্গে তিনটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেন। তবে অডিও রেকর্ডগুলো এরিকেরই কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অডিওতে এরিককে বলতে শোনা যায়, ‘বিদিশা আমার জন্য গজব। তার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করেন। তিন বছর অনেক সহ্য করেছি। তার সঙ্গে আমি একদিনও থাকব না। আমি আত্মহত্যা করব।’
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলে এরিকের দেখভালের জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার আগে একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। এই ট্রাস্টে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা এফডিআর করা আছে। সেখান থেকে প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া, ট্রাস্টের অধীনে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ৪৫ হাজার, বনানীর ফ্ল্যাট থেকে ২৫ হাজার, গুলশানের একটি দোকান থেকে ২ লাখ টাকা আয় হয়। ট্রাস্টের অধীনে রংপুরে একটি কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে। সেখান থেকে বছরে ৩০ লাখ টাকা আসে। এ টাকা দিয়েই এরিক এরশাদের ভরণপোষণ চলছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে ট্রাস্ট নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা ও মামুনুর রশীদের মধ্যে। গত অক্টোবর মাসে তাদের দুজনকে ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অপসারণ করে অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. তানভীর ইকবালকে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করা হয়।
ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে মামুনুর রশীদকে বরখাস্ত করেছিলেন এরিক এরশাদ। এরিক অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাস্টের সদস্যরা তার ভরণপোষণের জন্য কোনো টাকা দিচ্ছেন না। পরে মা বিদিশা সিদ্দিককে প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টায় এরিক গুলশান থানায় জিডি করেন।
এ প্রসঙ্গে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অডিট ফার্ম গঠন করে ট্রাস্টের সমুদয় আয়-ব্যয়ের হিসাব আমরা করছি। সেখানেও নানাভাবে বাধা দিতে চান বিদিশা। আমরা হলফ করে বলছি, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের করে যাওয়া ট্রাস্ট থেকে আমরা এক টাকাও তুলিনি। ট্রাস্টের লভ্যাংশের টাকা এরিকের ভরণপোষণের জন্য ব্যয় করা হয়।’
এদিকে সাবেক ট্রাস্টিদের সংবাদ সম্মেলনের পর বুধবার বিকালে গণমাধ্যমকে দুটি ভিডিও বার্তা পাঠান এরিকের মা বিদিশা।
ওই ভিডিও বার্তায় এরিক মামুনুর রশীদসহ সাবেক ট্রাস্টিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে হ্যারাস করা বন্ধ করেন। না হলে আমি আপনাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’