× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শুরুতেই হোঁচট

বাছির জামাল

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ০৮:৫১ এএম

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:৪৩ এএম

বিএনপি কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ফাইল ফটো

বিএনপি কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ফাইল ফটো

বিএনপির সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। শুরু হতে-না-হতেই এ আন্দোলনে দেখা দিয়েছে ফাটল। আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়নের প্রক্রিয়াসহ এর সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করা কয়েকটি দলের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে আন্দোলনের সঙ্গী অপর কয়েকটি দল। তারা বিএনপির বিরুদ্ধে ‘বিমাতাসুলভ আচরণের’ও অভিযোগ করছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জমেছে দলগুলোর মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে ২০ দলীয় জোটের একাংশ নিয়ে গঠিত ১২ দলীয় জোট যুগপতের কর্মসূচি ১৬ জানুয়ারি পালন না করে এক দিন পিছিয়েছে। অথচ জোটটির এ কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানে না বিএনপি। 

এরই মধ্যে ১২ দলীয় জোটের সন্বয়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম জানিয়েছেন, তারা ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামে যুগপতের কর্মসূচি পালন করবেন। ঢাকায় হবে ১৭ জানুয়ারি। 

সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ ১০ দাবিতে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি ও এর মিত্র দলগুলো। অবশ্য ঢাকা ও রংপুর বাদে অন্য মহানগর ও জেলাসমূহে ২৪ ডিসেম্বর থেকেই যুগপতের কর্মসূচি শুরু হয়। যুগপতের প্রথম কর্মসূচিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ভেঙে গঠিত ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, কর্নেল (অব.) অলির নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জামায়াতে ইসলামী, সাত দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চসহ কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠন অংশ নেয়। 

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে অংশ নেয় ‍জামায়াত। এ সময় রাজপথে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়ায় দলটি। এতে তাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। আবার গ্রেপ্তারও হন অনেকে। তবে ‍যুগপতের পরবর্তী কর্মসূচি দেয়নি সংগঠনটি। তারা সেদিন ওয়ান-ইলেভেন উপলক্ষে গণতন্ত্র হত্যা দিবসের আলোচনা সভার কর্মসূচি দেয়। এরপরে আর কোনো কর্মসূচি দেয়নি জামায়াত।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়ে কোনো বিবৃতি না দেওয়ায় বিএনপিকে নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া আরও নানা কারণে যুগপৎ আন্দোলন থেকে আপাতত পিছিয়েছে দলটি। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের কথাবার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের দেওয়া পোস্ট থেকে এসব বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সেলের সমন্বয়ক আতাউর রহমান সরকার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গেলে বিএনপিকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। উদার হতে হবে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নিজেদের করা লিয়াজো কমিটি সদস্যরা অন্য দলগুলোর সাথে নামকাওয়াস্তে যোগাযোগ করে নিজেদের কর্মসূচি চাপিয়ে দেয়ার দায়িত্বহীন আচরণ বন্ধ করতে হবে। কার্যকর কেন্দ্রীয় লিয়াজো কমিটি লাগবে। যেখানে প্রত্যেক দল থেকে প্রতিনিধি থাকবে। আন্দোলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখানেই হবে। বিএনপির তার যেকোনো দলীয় সিদ্ধান্ত বা কর্মকৌশল স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নিবে, জামায়াত তার সিদ্ধান্ত, কর্মকৌশল কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদে নিবে, অন্য দলগুলো তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিবে সেটা নিয়ে কারো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আন্দোলনের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির কর্ম কৌশল বা সিদ্ধান্ত অন্য দলগুলোর উপর চাপিয়ে দিলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্য কেউ নিবে কেন!!! যুগপৎ আন্দোলনে শরিকদের উপর সরকারের নির্মমতার সময়ে নিরবতা সুষ্ঠু রাজনীতির লক্ষণ নয়। ইতিহাস বড়ই নির্মম।রাজনৈতিক অসততা, কুট কৌশল কাউকে বড় করেনা বরঞ্চ ক্ষতির দিকেই নিয়ে যায়।’ (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে)

এদিকে ১২ দলীয় জোট প্রথমে ১৬ জানুয়ারি কর্মসূচি ঘোষণা করলেও পরে তা এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় এ কর্মসূচি পালন করবে ১৭ জানুয়ারি, চট্টগ্রামে করবে ১৬ জানুয়ারি। 

তবে জোটটির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই ১২ দলীয় জোট ঢাকায় তাদের কর্মসূচি এক দিন পিছিয়ে দিয়েছে। জোটটি মনে করছে, বিএনপি তাদের স্থায়ী কমিটিতে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়ে লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে তাদের জানিয়ে দেয়। এটিকে বিএনপির চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত মনে করেন জোটটির নেতারা। সূত্রটি বলছে, ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে- বিএনপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে। অর্থাৎ অন্য দল ও জোটের মতো তাদেরকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ ইবরাহিম কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আগামী ১৬ জানুয়ারি আমরা ঢাকায় না করে চট্টগ্রামে কর্মসূচি পালন করব। ঢাকায় কর্মসূচি রয়েছে এক দিন পর।’ যুগপৎ কর্মসূচি তো আলাদা স্থান থেকে এক দিনেই হয় জানালে তিনি বলেন, ‘ওইদিন চট্টগ্রামে আমাদের কর্মসূচি রয়েছে।’ 

আগামী ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকের পাশের রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করার অনুমতির জন্য পুলিশের কাছে চিঠিও দিচ্ছে ১২ দলীয় জোট। জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে তাদের চিঠি যাবে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকায় যুগপৎ কর্মসূচি ১৬ জানুয়ারির বদলে ১৭ জানুয়ারি হবে। চট্টগ্রামে হবে ১৬ জানুয়ারি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছি।’ 

১২ দলীয় জোটের কর্মসূচি ১৭ জানুয়ারি পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুগপৎ আন্দোলন সমন্বয়ে গঠিত দলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি জানি না। যুগপতের কর্মসূচি ১৬ জানুয়ারি।’ ১২ দলীয় জোট ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামে কর্মসূচি পালন করবে জানালে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা দুই দিন করবে হয়তো।’

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশীদলগুলোর অনেক ক্ষোভও রয়েছে। বিশেষ করে কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, স্থায়ী কমিটিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্রদলগুলোর অফিসে গিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি তো তাদের সঙ্গে (১২ দলীয় জোট) নিজে ‍গিয়ে কথা বলেছি। আমি ও মিন্টু ভাই (বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু) তাদের অফিসে গিয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাহলে কী করতে হবে? তাদের আলাদা আলাদা বাসায় যেতে হবে?’ অংশীদলগুলোর ক্ষোভের বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, ‘কে বলেছে? জেনুইন (সঠিক) ক্ষোভ থাকলে তো দূর করা উচিত।’ 

এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে গণহারে দল বাড়ানোয় এ নিয়ে খোদ বিএনপির মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন এর সদস্যরা। 

গত ৮ জানুয়ারি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১৫ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সমমনা গণতান্ত্রিক জোটের’ আত্মপ্রকাশ হয়। এর ঘোষণা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান।

সমমনা গণতান্ত্রিক জোটের মধ্যে আছে ইয়ুথ ফোরাম, জিয়া নাগরিক সংসদ, ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট, শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল, বাংলাদেশ জাস্টিজ পার্টি, সংবিধান সংরক্ষণ পরিষদ, গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চ, জাতীয়তাবাদী চালক দল, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা ৭১, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশ, মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল, দেশ রক্ষা মানুষ বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ নামে ১৫টি সংগঠন। এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান। 

এই ১৫টি সংগঠন নিয়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দালনে মিত্রদলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪-তে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘৫৪ দল একজন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। কী হবে? ৫৪টি ঘোড়ার ডিম পাড়বে ৫৪টি দল। ভুয়া, এটা গরুর হাট।’ 

এ নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উষ্মা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে আলাপ করতে ফোন করলে বিএনপি মহাসচিব তাতে সাড়া দেননি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা