প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৪৫ পিএম
মাহমুদুর রহমান মান্না, সভাপতি, নাগরিক ঐক্য। ফাইল ছবি
ইন্টারনেটে গোয়েন্দা নজরদারিতে ইসরায়েলের কোম্পানি থেকে বাংলাদেশ সরকারের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে সেদেশের সংবাদপত্র হারেৎজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) দলের বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মান্না বলেন, ‘গত কয়েক বছরে বিরোধী রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারির বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে।’
সম্প্রতি ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজ-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙঘনের অভিযোগ থাকার পরও বাংলাদেশের কাছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মান্না বলেন, ‘ক্ষমতাসীন মহল নিজেদের স্বার্থে অবৈধ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে এ ধরনের নজরদারি প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। জনগণের টাকায় এসব প্রযুক্তি কিনে জনগণকেই দমনের জন্য ব্যবহার করছে সরকার।’
বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শফিউল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধে আইনিভাবেই আড়ি পাতার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য একটি ইন্টিগ্রেটেড ল’ফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম-আইএলআইএস (আইনিভাবে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট মাধ্যমে আড়ি পাতার প্রযুক্তি) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক মান্না বলেন, ‘এমন প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্যের ও যোগাযোগের গোপনীয়তা, সুরক্ষা এবং বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার খর্ব করে চলেছে সরকার। সংসদে দাঁড়িয়ে অবৈধ স্বৈরাচার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা একরকম স্বীকার করেছেন।’
সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে মান্না বলেন, ’সরকার এক্ষেত্রে আইনসিদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আমরা জানতে চাই, কী সেই আইনসিদ্ধ প্রযুক্তি!’
ক্ষমতাসীন সরকারের হাতে দেশের মানুষের কোনো সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত নয় দাবি করে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ’বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ছাড়া জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর। প্রয়োজন একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিতামূলক জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সরকার এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সেই লক্ষ্যেই নাগরিক ঐক্য এবং গণতন্ত্র মঞ্চ লড়াই করে যাচ্ছে।’