প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪১ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:১০ পিএম
আ স ম আবদুর রব। ফাইল ছবি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার ঘটনাকে প্রতিহিংসার নতুন এক দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। একই সঙ্গে বিএনপি নেতাদের দ্রুত মুক্তির দাবিও জানান তিনি।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান তিনি। বিবৃতিতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের সই রয়েছে।
বিবৃতিতে জেএসডি নেতারা বলেন, ‘সরকার ক্ষমতার দাম্ভিকতায় গোপন অভিসন্ধি পূরণে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যে ধরনের অন্যায় আচরণ করছে, প্রতিশোধ এবং জিঘাংসাকে রাজনৈতিক পরিসরে যেভাবে বণ্টন করছে, তা প্রজাতন্ত্রের জন্য খুবই কলঙ্কজনক।’
এতে আরও বলা হয়, ‘গ্রেপ্তার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের জামিনপ্রাপ্তির মৌলিক অধিকারকে বারবার অগ্রাহ্য করে আইনের শাসন ও সংবিধানকে অসহায় করার মাধ্যমে সরকার নিজেকে চরম কর্তৃত্ববাদী করে তুলছে। রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা না করে, রাষ্ট্রীয় বল প্রয়োগ করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।’
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘ক্ষমতা ধরে রাখতে বিরোধীদের হত্যা করা, ষড়যন্ত্র করে গায়েবি মামলায় আসামি করা, পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা, উস্কানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে বিরোধীদের গ্রেপ্তার করা এবং দীর্ঘদিন অন্তরীণ রাখাসহ মধ্যযুগীয় নিপীড়ন-নির্যাতনের মাধ্যমে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সরকারের ঘৃণ্য অপসংস্কৃতি দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
‘অতীতের দলীয় স্বৈরাচার, সামরিক আইন জারির বিভীষিকা, কুৎসিত ক্ষমতালিপ্সায় গণতন্ত্র এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হননের অনিবার্য পরিণতিতে শাসকদের রক্তাক্ত পতন থেকে কোনো শাসক শিক্ষা লাভ করছে না।’
তারা আরও বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করে গণশাসনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রবিনির্মাণ করার রাজনীতি হাজির করাই আমাদের সকলের রাজনৈতিক কর্তব্য।’
রাজধানীর নয়াপল্টনে গত ৭ ডিসেম্বর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) কারাবন্দী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসকে ছয় মাসের জন্য জামিন দেয় হাইকোর্ট। এই জামিন স্থগিত চেয়ে বুধবার আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ৮ জানুয়ারি শুনানির জন্য তারিখ ঠিক করেছে চেম্বার আদালত।