বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় বুধবার জুলাই আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতারা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ভারতের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সরকার আওয়ামী লীগের বিচার প্রশ্নে শিথিলতা দেখাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বগুড়ার নামাজগড় আঞ্জুমান-ই-গোরস্থানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ রাতুল, সিয়াম শুভ ও শিমুলের কবর জিয়ারত শেষে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে এনসিপি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, জনগণের ভোটে নয়, জোর করে হয়েছেন। তিনি জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে গেছেন এবং আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্নে শিথিলতা প্রদর্শন করছেন। শহীদ জিয়ার ছেলে হিসেবে তার আদর্শ থেকেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিচ্যুত হয়েছেন।’
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফেরত দিলেও, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ভারত ফিরিয়ে দিচ্ছে না। তার দাবি, সরকারের সমঝোতার রাজনীতির কারণেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনাকে বাংলার মাটিতে এনে বিচার করব,’ বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে এনসিপি নেতা বলেন, পরীক্ষার হল ছেড়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে, যা তাদের গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। তিনি এই আন্দোলনকে শিক্ষা সংস্কারের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ব্যর্থতা থাকলেতাঁর পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের ওপর মঙ্গলবার লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আর কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে লাঠি বা বুটের আঘাত পড়া উচিত নয় এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সরকারের প্রতি অহংকার পরিহার করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে এই আন্দোলন সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে পারে।
এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার ভাষ্য, নিজেদের ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কারের কথা বললেও এখন তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
সারজিস আলম বলেন, ‘এই ধরনের প্রতারণা করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ দীর্ঘদিন প্রাসঙ্গিক থাকতে পারবে না। বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো আমাদের অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ছিল। তারা ইনসাফের পক্ষে থাকবে বলে আমরা আশা করি। তারা বিচ্যুত হলে আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।’
বগুড়াকে জুলাই আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের অন্যতম এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জেলায় ১৭ জন শহীদ হয়েছেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি পাবনায় দুই কর্মী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খানের প্রসঙ্গ তুলে তার গ্রেপ্তার দাবি করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এ দিন জুলাই আন্দোলনের শহীদ রাতুল, সিয়াম শুভ ও শিমুলের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় ওসমান হাদিসহ দেশের সব শহীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।