প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৩৯ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:০২ পিএম
বিএনপি রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, প্রতিটি দফা একেকটি ভিন্ন চিন্তাভাবনা থেকে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক ফিলোসফি, যা খুব কম রাজনীতিবিদ করতে পারেন। সেই জায়গায় তারেক রহমান এই রূপরেখা ঘোষণা দিয়ে নিজের নেতৃত্বের যোগ্যতাকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।’
সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
খসরু বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ সরকার ফের দেশকে সংকটে ফেলেছে, যা অনেক গভীরে চলে গেছে। এখান থেকে মুক্তি পেতে হলে ২৭ দফা রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বিএনপি তুলে ধরেছে বলে সাধারণ মানুষ বলছে। বিদেশিদের কাছে খুব বেশি গ্রহণযোগ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপির ২৭ দফা রূপরেখা বাস্তবায়ন না হলে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। দেশকে গভীর গর্ত থেকে তুলে আনতে হলে ২৭ দফার বিকল্প নেই। এ জন্য বিএনপির প্রতিশ্রুতি থাকা দরকার।’
দেশে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি চলছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। বলেন, ‘দেশের ৬৫ শতাংশ ব্যবসায়ী সংসদে বসে আছেন। তারা তো কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। আজকে দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটা তো তারাই করছেন। আজকে দেশের অর্থনীতি আওয়ামী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং পরিবর্তন দরকার। আপার হাউসের পরিবর্তন দরকার। যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী, তারা সেখানে যাবেন। তখনই দেশের স্থিতিশীলতা আসবে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে জনগণের সঙ্গে কিছু চুক্তি বা ওয়াদা দিতে হবে। সেটাই করেছেন দেশনায়ক তারেক রহমান, যা রাজনীতিবিদরা খুব একটা করতে পারেন না। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বের যোগ্যতা অনেক ওপরে স্থান পেয়েছে, যা বিদেশিরাও প্রশংসা করছেন।’
রেইনবো নেশনের ব্যাখ্যা করে আমীর খসরু বলেন, ‘এখানে অনেক ধর্মের ও বর্ণের মানুষ বাস করে। সবার ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য বা সম্মান জানানোর জন্য রেইনবো নেশন। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে মূলে রেখে নতুনভাবে রেইনবো নেশনের কথা বলা হচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই ধারণা মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে। রেইনবো নেশন সারা বিশ্বকে বোঝায়।’
বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের যে রূপরেখা দিয়েছে, তা সময়োপযোগী। আসলে দেশের যে অবস্থা তার মেরামতের কোনো বিকল্প নেই। দেশ ও জনগণকে রক্ষার লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাস্তব চিন্তাধারা থেকে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা দিয়েছেন।’
বিকল্পধারার (একাংশ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী বলেন, ‘গণতন্ত্র হলো বুর্জোয়া পদ্ধতি। আজকে ক্ষমতাসীনরা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট করেছে। তারা লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। আজকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের বিকল্প নাই।’
স্বাগত বক্তব্যে বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের যে রূপরেখা ঘোষণা করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে উদ্দেশ্য, সেটা বাস্তবায়ন হবে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণে কাজ করা। ক্ষমতা ভোগ করা নয়। এরই মধ্যে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সবাই প্রশংসা করছেন।’
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘লাইফ সাপোর্টে থাকা গণতন্ত্র ও লক্ষ্যচ্যুত দেশকে পুনরুদ্ধার করতে হলে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের বিকল্প নেই। বিএনপি যে রূপরেখা দিয়েছে, এটা জাতির মুক্তির সোপান।’
অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। এখান থেকে দেশের মানুষ ও দেশকে রক্ষার স্বার্থে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা হলো আমাদের মুক্তির গাইডলাইন।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ ভালো চললে তো আজকে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা লাগত না। কিন্তু দেশের কী পরিস্থিতি? এখানে ভোটাধিকার নেই। গণতন্ত্র নেই। আর্থিক খাতে চলে লুটপাট। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটে স্বদেশ আজ ধ্বংসপ্রায়। এখান থেকেই দেশরক্ষার লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। আমরা সফল হব।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিল বিএনপির মিডিয়া সেল।
ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুর রহমান, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, অধ্যাপক খান মো. মনোয়ারুল ইসলাম শিমুল, কৃষিবিদ অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এস এম শরিফুল করিম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রইস উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ড. শরিফুল ইসলাম দুলু, অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, মো. হারুন অর রশিদ, জাসাসের জাহিদুল আলম হিটো, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রকৌশলী মাহবুব আলম, কৃষিবিদ কে এম সানোয়ার আলম, শফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।