চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬ ২০:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬ ২১:১১ পিএম
এনসিপির লোগো
চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একাধিক নেতা-কর্মী একে অপরের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলেছেন। গত ১৪ জুন নগরীর জিইসি মোড় এলাকার একটি হোটেলে সংঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। যার সূত্র ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা ও জিডি।
অশোভন আচরণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগে মামলা করেছেন এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া আফরিন। চট্টগ্রামের একটি আদালতে গত রবিবার দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়েছেন আদালত।
মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় যুবশক্তির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, এনসিপি কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভাসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া নেপথ্যে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে সাদিয়া আফরিন উল্লেখ করেন, তিনি এনসিপির একজন সক্রিয় কর্মী এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা কমিশনার পদপ্রার্থী। রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, গত ১৪ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং ১৯ জুন অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাকে এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম সুজা উদ্দিনকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তার প্রায় ৫ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
সাদিয়া আফরিন বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে”।
এরআগে গত ১৪ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ার পর বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা চট্টগ্রামে এসে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগেই দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব ও সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিনকে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এ বিষয়ে এনসিপি কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “মামলাটা আসলেই ভিত্তিহীন, বরং এটি আমার মানহানি করেছে। সাংগঠনিক আলাপের কথা বলে আমাকে মদের বারে নিয়ে গিয়ে হ্যারাসমেন্ট করা হয়েছে। এতে আমার মানহানি হয়েছে এবং এ বিষয়ে আমি জিডি করেছি”।
মানহানি হয়েছে বলার পর তিনি কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ইভা বলেন, “আমার সংগঠন যেহেতু এটা নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে, তাই আমি সংগঠনের ওপরই আস্থা রাখব”।
এ বিষয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমি কোন অ্যাঙ্গেল থেকে মানহানি করেছি জানি না, উনিই ভালো বলতে পারবেন। আর একজন নারী আরেকজন নারীকে সাংগঠনিক আলাপ আছে বলে মদের বারে ডেকে নিয়ে যেতে পারে- তার আসলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানসম্মান কোনোটাই আছে বলে আমি মনে করি না। সেই জায়গা থেকে তার মানহানি করার প্রশ্নই আসে না”।
তিনি আরও বলেন, “একজন নারীর সাথে আমার ছবি যুক্ত করে বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে ছড়িয়ে আমার সম্মান হানি করা হয়েছে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এজন্য ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে। আগামীকালের মধ্যেই এই মামলা দায়ের করা হবে”।