বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: ভিডিও থেকে
যুগের পর যুগ দেশের মানুষ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিষ্ঠুর ও নির্দয় নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে”।
‘নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সময় অসংখ্য মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এবং অনেককে গুম করা হয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এছাড়া বহু আহত ব্যক্তি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন”।
ওই সময় মানুষের বাকস্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল এবং বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের শোষিত ও নির্যাতিত ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সংগঠন ও সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগেও বিশ্বব্যাপী সংঘাত জিইয়ে রেখে সাধারণ মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে”।
“গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার নারী-শিশুসহ নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। অতি সম্প্রতি ইরানেও মিথ্যা অভিযোগে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে। ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে মানবজাতির ওপর চলমান এই নিষ্ঠুর জুলুম-নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত”।