× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপিই কি ফের তরাবে পতিত আওয়ামী লীগকে

মারুফ কামাল খান

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

বিএনপি মনে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বে বিশ্বাসী লোকেরা যেকোনো মতামতের ভিত্তিতে সংগঠিত হতে এবং দল গঠন করতে পারে।  গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিএনপি মনে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বে বিশ্বাসী লোকেরা যেকোনো মতামতের ভিত্তিতে সংগঠিত হতে এবং দল গঠন করতে পারে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পতিত, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এবং নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৎপরতা-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে তরানোর দায়িত্ব ফের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ওপরই বর্তেছে কি না তা নিয়ে এখন রাজনীতিসচেতন মহলে আলাপ ছড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের অভিমত হচ্ছে, বিএনপি একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি মনে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বে বিশ্বাসী লোকেরা যেকোনো মতামতের ভিত্তিতে সংগঠিত হতে এবং দল গঠন করতে পারে। বাংলাদেশে সব মত-পথের মানুষদের এই অবারিত অধিকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও আদর্শিক নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দিয়েছিলেন। তাই বিএনপি কোনো নিয়মতান্ত্রিক দলকে কখনও নিষিদ্ধ করেনি। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি উত্তরাধিকার সূত্রে বিভিন্ন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল পেয়েছে। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদী রেজিম প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় স্বার্থবিনাশী অপতৎপরতার কারণে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। তবে এর জন্য তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। গণহত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে এখন দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচার চলছে। গুরুতর অপরাধে দণ্ডিতদের জগতের কোনো সভ্য দেশেই রাজনীতি ও দল করার অধিকার থাকে না। এর বাইরে যারা অপরাধে লিপ্ত হয়নি কিংবা ক্ষমার যোগ্য সামান্য অন্যায়ে জড়িত ছিল, তাদেরকে আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো নামে সংগঠিত হবার সুযোগ দেওয়া যায় কি নাÑ তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কথাবার্তা হচ্ছে, হতেই পারে।

তবে বিএনপি মহাসচিব ও মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার জিজ্ঞাসার জবাবে টেলিফোনে বলেন, দল হিসাবে বিএনপি এবং আমাদের সরকার আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কখনও এমন প্রয়োজন দেখা দিলে দেশবাসীকে জানিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য আমাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ এই দেশ, জাতি ও সমাজে যে-সব ক্ষত সৃষ্টি করে গেছে সে-সব ঘা এখনও দগদগে। তাদেরকে সব অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবার সময় এখনই আসেনি। আমরা কেন, কারও পক্ষেই গণমানুষের অনুভূতির বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের গুরুতর সব অপরাধীর বিচারের একটা পর্যায় অন্তত শেষ হোক, তারপর দেখা যাবে। 

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রিত ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই দেশে ফিরে আসার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি প্রচার করার পর এমন গুজব রটে যায় যে, ভারতের মধ্যস্থতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শিগগিরই আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। তবে আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও আমি অন্তত অমনধারা কোনো সমঝোতার প্রমাণ পাইনি। বরঞ্চ বিভিন্ন সূত্র থেকে আমি জেনেছি যে, ভারতীয়রা বাংলাদেশে তাদের প্রতি বিশ্বস্ত একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং এ ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে তারা অনানুষ্ঠানিক আলাপ-সালাপও করেছে। তবে প্রথমদিকে কিছু ভুল ধারণা থাকলেও ভারতের কর্তাব্যক্তিরা এখন অনুধাবন করতে পারছেন যে, শেখ হাসিনা ও তার অনুগতদের দলের নেতৃত্বে রেখে বাংলাদেশে অচিরেই বৈধ ও কার্যকর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করে দেওয়াটা একটি অবাস্তব পরিকল্পনা। এই উপলব্ধি থেকে তারা হাসিনা ও তার অনুগত ধিকৃত নেতাদেরকে সাইড লাইনে রেখে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যদের সামনে এনে শুদ্ধ আওয়ামী লীগ গড়ার চিন্তা থেকে কথাবার্তা শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার অনমনীয়তায় তা ভেস্তে গেছে।

হাসিনার পতন ও পালিয়ে যাবার পর তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় একাধিকবার অঙ্গীকার করেন যে, তার মা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না। দলের নেতৃত্বে তাদের পরিবারের সদস্যরাও যে অপরিহার্য নয়, জয় সে-কথাও জোর দিয়ে বলেন। কিন্তু সময় পেরোলে এবং ভারতে এসে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জয় মায়ের সঙ্গে দেখা করার পর তার অবস্থান বদল করেন। দলের নেতৃত্বে নিজেকে বহাল রাখার ক্ষেত্রে হাসিনা অনড় অবস্থান নেন। তিনি ভারতীয় নেতাদেরও এ ব্যাপারে প্রভাব বিস্তারের অনুরোধ জানান।  

হাসিনার পক্ষে প্রভাব খাটাবার ব্যাপারে ভারতের সামনে সমস্যাটা হচ্ছে, চব্বিশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান দমানোর উদ্দেশ্যে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, সে ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের তদন্ত রিপোর্ট। ওই প্রতিবেদনে শিশুসহ অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। যে-সমস্ত হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলো হাসিনার সরাসরি হুকুমে পরিচালিত হয়। জাতিসংঘ সংস্থার ওই ফাইন্ডিংসের কারণে ভারত-কর্তারা হাসিনাকে দায়মুক্ত ও পুনর্বাসিত করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন। এই পটভূমিতে নাছোড়বান্দা হাসিনা বিপুল অর্থে পাশ্চাত্যের একটি আইনজীবী প্যানেল ভাড়া করেন। তারা চিঠি দিয়ে জাতিসংঘ সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের যথার্থতা চ্যালেঞ্জ করেন এবং তা সংশোধনের দাবি জানান। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকাকালে লুণ্ঠিত ও পাচার করা বিপুল অর্থ ব্যয় করে পিআর ফার্মের মাধ্যমে ভারতে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ায় হাসিনার পক্ষে প্রচার এবং তার সাক্ষাৎকার প্রচারের ব্যবস্থা করেন। অনলাইন প্রোপাগান্ডা জোরদার, দেশের মধ্যকার অনুগত সংবাদকর্মী ও সংস্কৃতিসেবীদের সক্রিয় করা এবং লীগের নামে বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও নাশকতা সৃষ্টির জন্যও বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়। হাসিনার আশা ছিল, এসবের মাধ্যমে তারেক রহমানের সরকারের ওপর বিরাট চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে। কিন্তু তেমন কিছুই ঘটেনি। উপরন্তু জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র হাসিনার চিঠিকে উড়িয়ে দিয়ে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের রিপোর্টের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আন্দোলনের মুখে স্বজনসহ পালিয়ে যাওয়া হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের কথা মোটেও ভাবেননি। তারা এখন হাসিনার নির্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে রাজি হচ্ছেন না। হাসিনা রেজিমে দলের বেশিরভাগ ত্যাগী নেতাকর্মী ছিলেন অবহেলিত। সুবিধাবাদী একটা হাইব্রিড চক্র দল ও সরকারকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। এই সুবিধাশিকারিরা এখন দল ও রাজনীতির চেয়ে আত্মরক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এমন একজন সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, সময়ের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ হয়তো ফের রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু হাসিনার ফেরার আর কোনো সম্ভাবনাই নেই। তিনি বলেন, একটি শুদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা চালাতে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি অর্জনের ব্যাপারে ভারতীয় প্রয়াসকে হাসিনা ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন বলে তারা তার ওপরে বিরক্ত।

ওই সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, ভারত তার স্বার্থেই হাসিনার মুখ চেয়ে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় বসে থাকবে না। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বেনামে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতীয় ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটা শুরু করবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানের ফৌজি প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ ও ওয়ালি খানের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ন্যাপ আর কোনো দিনই স্বনামে রাজনীতিতে ফিরতে পারেনি। কিন্তু জিয়াউর রহমান স্বকণ্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং পরে সেই ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমানের নাম যুক্ত করে শুরু করেন মুক্তিযুদ্ধ। এতে সব ব্যর্থতা ঘুচিয়ে মুজিব ও আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতা বহাল থাকে এবং যুদ্ধের বিজয়মাল্য এককভাবে তাদের ভাগ্যেই জোটে।

একদলীয় বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগসহ সব দল বিলুপ্ত করেছিলেন। এরপর রক্তাক্ত পটপরিবর্তনে বাকশাল উৎখাত হলে তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিতে পড়ে যায়। সেই কঠিন দুঃসময়ে নতুন করে আওয়ামী লীগ গঠনের সুযোগ দেন জিয়াউর রহমান। তখনও মুজিবকন্যা হাসিনা-রেহানারা ছিলেন ভারতে আশ্রিত। মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ভারতাশ্রিত একদল আওয়ামী সশস্ত্রযোদ্ধা নাশকতা ও সীমান্তে গোলযোগ চালাচ্ছিল। এদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান আলোচনার উদ্যোগ নেন। সরকারি মালিকানার প্রভাবশালী ম্যাগাজিন বিচিত্রার শাহরিয়ার কবির ও মাহফুজউল্লাহ্‌কে ভারতে পাঠান হাসিনা ও কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আলোচনার সূত্রপাত করতে। পরে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ড. কামাল হোসেনের মাধ্যমে হাসিনাকে দেশে ফেরান। তার আগেই আওয়ামী লীগ তাদের দলের শীর্ষপদে হাসিনাকে স্থাপন করে। তবে হাসিনা ফিরে কাদের সিদ্দিকীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করলে তার ফিরে আসা বিলম্বিত হয়। 

হাসিনা ফেরার ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে শহীদ হন। এই ঘটনা যে সংশয় ও সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করে, সেই বিষবৃক্ষ ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। তবে দল নিষিদ্ধ করে রাখার বিরোধী বিএনপি হাসিনাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবে কি না এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তারা কতদিন বহাল রাখবে তা জাতীয় পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সম্পর্কের সমীকরণের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা