প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫০ এএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৯ পিএম
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়েই তিনি মোনাজাত শুরু করেন। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই শ্রদ্ধা জানান। এবারই প্রথম জামায়াতের কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানালেন।
পরে শহিদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াত কখনও ফুল দিতে শহিদ মিনারে আসেনি, এবার কী মনে করে আসলেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে তাই আমি এসেছি।”
শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আসলে ভাষা শহিদদের আগে ৪৭ এ যারা শহিদ হয়েছেন তাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহিদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহিদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ করি, এর পরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহিদ হয়েছেন তাদেরকেও স্মরণ করি। আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহিদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত, একটা মানবিক দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং কোনো অপকর্মের সাথে আমরা আপস করব না।”
এদিন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে শহিদ মিনার সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানায়।
১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে আবুল বরকত, সালাম, রফিকউদ্দিন, জব্বারসহ অনেকে নিহত হন।
দিনটি বাংলাদেশ ভাষা শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালে দিনটিকে জাতিসংঘ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।