প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২০ পিএম
বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: বিবিসি বাংলা
গণভোট বাতিল হলে নির্বাচনও বৈধতা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ঢাকার বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা মনে করি যে আদালত এ বিষয়ে অবশ্যই গণভোটের বা জনগণের পক্ষে রায়টা দিবেন, গণঅভ্যুথানের পক্ষে। কারণ যদি এই গণভোট বাতিল হয়ে যায় তাহলে কিন্তু এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ এই নির্বাচন আপনি কোন সংবিধান অনুসারে করেছেন? এই নির্বাচন তো সংবিধান অনুসারে এই সময় নির্বাচন হওয়ার কথা না। অন্তর্বর্তী সরকার হওয়ার কথা না। গণভোট কোনো কিছুই হওয়ার কথা নয়। বিদ্যমান সংবিধান তো আগের সংবিধান। এই সংবিধান অনুযায়ী আগের সরকার বহাল থাকার কথা। ফলে এই সবকিছুর বৈধতা একমাত্র হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
সংস্কার এবং জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেদিন শপথ গ্রহণ এবং মন্ত্রিসভার শপথ যেদিন গঠিত হলো সেই দিনেই কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের সামনে বাংলাদেশের যারা সংস্কারের জন্য প্রত্যাশী ছিল যারা গণভোটে হ্যায়ের পক্ষে গণরায় দিয়েছে তাদের সকলের সঙ্গেই এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি দল তারা শপথ গ্রহণ না করে বিরত থেকেছেন।
“গণভোট হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে। যে আদেশে খুবই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে শপথ গ্রহণ সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই ব্যক্তি শপথ করাবেন। যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন তাদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে একটি পরিষদ গঠিত হবে। যারা মূলত এই জুলাই সনদ এবং গণভোটে যেই সংস্কার প্রস্তাবনগুলো ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। সেগুলো সংবিধানে সমন্বয় করবে। কিন্তু একটি ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার মাধ্যমে, সংবিধানের দোহাই দেয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য থেকে তারা শপথ নেননি। তারা বিরত থেকেছেন। আমরা মনে করি একটি সংস্কারের সাথে প্রতারণা”, যোগ করেন তিনি।
সরকারি দল বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শপথ নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করব তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা শপথ নিবেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই জাতীয় সংসদের কোন মূল্যই নাই। কারণ এই জাতীয় সংসদ শুধু জাতীয় সংসদ নয়। এই জাতীয় সংসদ একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে এবং সংবিধান পরিবর্তন করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যে সংস্কার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সংস্কার সে সংস্কারগুলো নিশ্চিত করবে এটি না হলে বাংলাদেশ আসলে আগের বাংলাদেশে থাকবে”।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সুষ্ঠ হলেও নির্বাচনের ফলাফলে কার্চুপি হয়েছে। সেগুলো সত্ত্বেও আমরা গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা দেশের স্থীতিশীলতার স্বার্থে আমরা এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি”।
তিনি আরও বলেন, সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর না করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। এজন্য দ্রুত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংসদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানান তিনি।