আসাদুজ্জামান সম্রাট
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৮ পিএম
নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নির্বাচনের মাঠে তিনি ছিলেন একক ভূমিকায়। রাজধানী ঢাকা থেকে তৃণমূলের জনসভাগুলোতেও ছিলেন একক বক্তা। জনসভার মঞ্চে হেঁটে হেঁটে ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ’ বক্তৃতায় আকৃষ্ট করেছেন সাধারণ মানুষকে। বিএনপির ৩১ দফাসহ নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’সহ নানা কর্মসূচিতে আস্থা রেখেছেন দেশের জনগণ। ১২ ফেব্রুয়ারির গণরায়ের পাঁচ দিনের মাথায় আগামীকাল মঙ্গলবার যাত্রা শুরু হচ্ছে ‘তারেক রহমান’ সরকারের।
শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ‘শপথ কক্ষে’ আগামীকাল সকালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। বিকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘টিম তারেক রহমান’ শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী। টিম তারেক রহমানের সদস্য কারা হবেন তার আনুষ্ঠানিক কোনো তালিকা পাওয়া না গেলেও তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। যেখানে স্থান হবে অভিজ্ঞদেরও। থাকবে আঞ্চলিক সমবণ্টনও।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকা। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফের নিরাপত্তা বলয়ে চলছে মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি নান্দনিকভাবে প্রস্তুত করছে শপথ মঞ্চ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার স্থান। থাকছে আপ্যায়নের ব্যবস্থাও।
এতদিন মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে শপথ অনুষ্ঠানের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাকে ঘিরে তারেক রহমানের রয়েছে অন্যরকম এক আবেগ। এর পলক দূরত্বেই শায়িত আছেন তার শহীদ পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
প্রস্তুত সংসদ ভবন : নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবনে এখন সাজ সাজ রব। শপথ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে পুরো সংসদ ভবন এলাকা নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। দক্ষিণ প্লাজায় শপথ মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ যেমন চলছে, তেমনি ভবনের অভ্যন্তরে চলছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম। সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের নিচ তলায় রয়েছে শপথ কক্ষ। সেটি প্রস্তুত করা হয়েছে অনেক আগেই। শপথ অনুষ্ঠানের পর যে যে স্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তারেক রহমান ও সংসদ সদস্যরা যেতে পারেন সেই স্থানগুলো নিখুঁতভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে খোলা আকাশের নিচে। বিকাল ৪টায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে নানা টানাপড়েন ছিল। শেষ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যানের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে পুরো আয়োজনে।
সংসদ ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভবনের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। করিডোর, লবি, কমিটি কক্ষ, সম্মেলন কক্ষ, প্রধান অধিবেশন কক্ষের আশপাশের এলাকা ও সদস্যদের নির্ধারিত আসনগুলো ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হচ্ছে। মেঝে ধোয়া, দেয়াল ও কাচ পরিষ্কার, আসবাবপত্র ঘষে চকচকে করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষÑ সবকিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।
এ ছাড়া নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোও নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডেস্ক, চেয়ার, আলমারি, ফাইল কেবিনেট গুছিয়ে রাখা হচ্ছে। কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শপথের দিন যেন কোনো কক্ষে অগোছালো অবস্থা না থাকে, সেজন্য প্রতিটি ঘর আলাদাভাবে পরিদর্শন করা হচ্ছে।
এদিকে গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোর সংস্কার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও টাইলস বদলানো হয়েছে, কোথাও রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। ভাঙা কাঠামো মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু সৌন্দর্য নয়, ভবনের কার্যকারিতাও নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ মঞ্চের অবস্থান, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, গণমাধ্যমকর্মীদের নির্ধারিত স্থান ও নিরাপত্তা বলয় কীভাবে গড়ে তোলা হবেÑ এসব বিষয় নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক ও পরিদর্শন চলছে। রবিবার সকাল থেকেই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংসদ ভবনে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে। কোথায় প্রবেশপথ খোলা থাকবে, কোথায় সীমিত প্রবেশাধিকার থাকবেÑ এসব বিষয়ও নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকতে পারেন। সে কারণে অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রটোকল ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতিথিদের চলাচলের পথ, বিশ্রাম কক্ষ ও বসার স্থান নতুন করে গুছিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। কেউ করিডোর পরিষ্কার করছেন, কেউ আলোর সংযোগ পরীক্ষা করছেন, কেউ আবার আসন বিন্যাস করছেন। পুরো পরিবেশে একধরনের নীরব কিন্তু সংগঠিত কর্মতৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদের নবনিযুক্ত সচিব এম সিরাজ মিয়া।
জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতির খুঁটিনাটি তদারকি করতে রবিবার এসেছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। সংসদ ভবনের প্রস্তুতিতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কাজ করছে এসএসএফের তত্ত্বাবধানে। সংসদ ভবন থেকে শুধু ইলেকট্রিক সাপ্লাই নেওয়া হচ্ছে।
নিয়ম অনুসারে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন, তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধান অনুসারে গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এবার এই বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ করা এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জেলে থাকার কারণে। সংবিধানের ‘সেকেন্ড অপশন’ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারÑ সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন নববির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
যা বললেন আইন উপদেষ্টা : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। আমি ধারণা করছি খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ দেবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই তাদের সংসদীয় দলের প্রধানকে নির্বাচিত করবে। এ ছাড়া বিকাল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে। আমার জানামতে এটা রাষ্ট্রপতি করবেন।
কারা আমন্ত্রিত হবেন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে। আমার জানামতে এখন পর্যন্ত সার্কভুক্ত দেশগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সেখানের মন্ত্রীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থান অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি।
তিনি বলেন, এসব কারণে সংসদটি অন্য সব সংসদের চেয়ে ভিন্ন। এই সংসদ প্রাঙ্গণে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এখানে জুলাই সনদ ঘিরে যে অনুষ্ঠান সেটাও এখানে আয়োজন করা হয়েছে। সুতরাং সংসদের দক্ষিণ প্লাজাটি বিভিন্ন কারণে আমাদের কাছে স্মরণীয়। এ সংসদের পাশেই বেগম খালেদা জিয়া এবং সবার প্রিয় আমাদের ওসমান হাদির জানাজা হয়েছিল। এটা ভিন্ন ধরনের তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে ডকুমেন্টেশন সেটা প্রকাশের একটি জায়গা হিসেবেও দাঁড়িয়েছে।
১৩ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ : নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও আছেন। এ ছাড়া চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণ পেলেও মোদি ঢাকায় আসবেন না। কারণ তার আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের শিডিউল ঠিক করা ছিল।
এদিকে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নিতে যাচ্ছে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নতুন মন্ত্রিসভা। এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই শপথবাক্য পাঠ করাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের প্রধান (সংসদ নেতা) নির্বাচিত করবে। সর্বশেষে বিকাল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এই শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
কেন বঙ্গভবনের বদলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজাকে বেছে নেওয়া হলোÑ এমন প্রশ্নে আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান এবং বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই সংসদ পেয়েছি, তার গুরুত্ব অন্য সব সংসদের থেকে আলাদা। এই সংসদ প্রাঙ্গণেই ‘জুলাই ঘোষণা’ ও ‘জুলাই সনদ’-এর মতো ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানগুলো হয়েছে। এ ছাড়া এখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতি জড়িয়ে আছে। জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ডকুমেন্টেশন প্রকাশের কেন্দ্রও হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই সংসদ। এসব আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী এটি সংসদ ভবনেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতির বিষয়ে আসিফ নজরুল জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানোর খবর তিনি মিটিংয়ে শুনেছেন। তবে কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থাকছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ব্যস্ততার কারণে তার পরিবর্তে দিল্লির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আগে আভাস দিয়েছিল। সর্বশেষ জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (কেবিনেট ডিভিশন) বর্তমানে কনভেনশন অনুযায়ী আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করছে। দক্ষিণ প্লাজাকে বর্ণিল সাজে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এই শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার।