চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৪ পিএম
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে শনিবার কথা বলেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোট থেকে মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দীন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরতে করা সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখে তড়িঘড়ি করে চলে গেলেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের পরাজিত প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, যিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোট থেকে মনোনীত হয়েছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে।
ভোটের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব ঠিক চললেও এরপর থেকে ব্যাপক কারচুপি হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন মুনির। তবে তার এই অভিযোগের বিপরীতে তথ্য-প্রমাণ চাইলে তা দেখাতে পারেনিনি তিনি।
অনিয়ম নিয়ে কোনো আইনি প্রতিকার চাওয়া হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের পর অভিযোগ করা হবে।”
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ উপজেলা মিলে যে আসন, সেখানে ভোটের ফলে দেখা যায়,
১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে সেনানিবাসের দুটি ছাড়া বাকি কেন্দ্রে তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
এমনকি নিজের কেন্দ্র চারিয়াতেও তিনি হেরেছেন।
এত বড় ব্যবধানে হারের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।
এছাড়া ভোটের দিন দায়িত্ব পালন করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও তিনি তাৎক্ষণিক অভিযোগ কেন করেননি—সে প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে ৪-৫টি চেক জালিয়াতি মামলার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং উল্টো সাংবাদিকদের কাছে তথ্যের উৎস জানতে চান।
মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিনই তাকে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ‘রিকশা’ প্রতীকে গণসংযোগ শুরু করেন।
কওমি মাদরাসাভিত্তিক ইসলামপন্থি সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। হেফাজত অধ্যুষিত এলাকায়ও তার পক্ষে সংগঠনটির কেউ মাঠে নামেনি কেন—এমন প্রশ্নের সদুত্তোর দিতে পারেনি তিনি।
উল্টো তিনি বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। ফলে তার কর্মীরা মাঠে কাজ করতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ ওঠে- তিনি ব্যারিস্টার আনিসের টাকায় নির্বাচন করেছেন। আলোচনায় থাকার উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।
এভাবে বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয় তুলে ধরা হলে এক পর্যায়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন শেষ ঘোষণা করে সেখান থেকে চলে যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, এনসিপির নেতা কে আই সাগর, আনোয়ার হোসাইন রব্বানী, মাওলানা মো. ঈসা ও মুফতি সিহাবুদ্দিনসহ অনেকে।