প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৯ এএম
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাঁয়ে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেড় বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল স্বীকৃতি দিতে রাজি না থাকলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি কোনো আপত্তি দেখাননি।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন চলাকালীন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জয়ের সাক্ষাৎকার নেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভির সাংবাদিক মাহাথির পাশা। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমি সবসময়ই উন্মুক্ত। আমি এমন একজন মানুষ, যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করে, তা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক। এটাই আমার কৌশল; জীবনে সবসময়ই এভাবেই চলেছি।’
সাক্ষাৎকারে জয় চব্বিশের আন্দোলন, তখনকার দমন-পীড়ন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার দায়, নির্বাচনে জামায়াতের উত্থান, সরকারের ভুল এবং আওয়ামী লীগ সংস্কারের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি ‘প্রহসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জয় বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় দল এবং সব প্রগতিশীল দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এমনভাবে নির্বাচন সাজানো হয়েছে, যাতে জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব পায়। এটি টেকসই হবে না। ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। এক পক্ষ নিষিদ্ধ হলে নির্বাচনকে কীভাবে গ্রহণযোগ্য বলা যায়, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।’
আওয়ামী লীগের শাসনামলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কি নাÑ এই প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি। তারা আদালতের রায়ের কারণে অংশ নিতে পারেনি। যদি তারা গঠনতন্ত্র সংশোধন করত, তাহলে অংশ নিতে পারত।’
আইটিভির সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিস্তৃত কারচুপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলা কেমন যুক্তিসংগত। জয় এ বিষয়ে বলেন, ‘গত তিনবারের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়বার বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছে। দ্বিতীয়বারের নির্বাচনের আগে সব জরিপ দেখিয়েছে আমাদের দল বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে। প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি অনিয়ম করেছেন, যা তদন্ত হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সামগ্রিক ফলাফলে তা প্রভাব ফেলত না।’
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বা বিদেশি সাংবাদিকরা যদি বলেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে, সেটি মেনে নেবেন কি? জয় স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, মেনে নেওয়া যাবে না। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সরকারের তত্ত্বাবধানে চলাচল করেছেন। তাদের স্বাধীনভাবে দেশের ভেতরে ভ্রমণের সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিরাপদ নয়। তাহলে তারা কতটা পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন?’
তারেক রহমান ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে জয় বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশের একটি বড় দল। তাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমি সবসময় বলেছি, বিএনপির কখনোই নির্বাচন বর্জন করা উচিত হয়নি। যদি তারেক প্রধানমন্ত্রী হন, আমরা তার সঙ্গে কথা বলব এবং কাজ করব।’
বংশানুক্রমিক নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আমরা নিজেই তৈরি করি। আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হতে চাইতাম, অনেক আগে হতে পারতাম। কিন্তু জীবনে সবসময়ই ক্ষমতা বা টাকার প্রতি লোভ ছিল না। আমি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারলেই খুশি।’