মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪১ এএম
জাতীয় পার্টির দুর্গ রংপুরে ছক্কা হাঁকিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো রংপুরে আসন পেয়েছে জামায়াত। ছয় আসনেই তাদের প্রার্থীরা জয়লাভ করছে। নির্বাচনের ফলাফল জানান দিচ্ছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল জাতীয় পার্টির নয়, এখন জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি। উত্তরাঞ্চলকে গুরুত্ব না দেওয়াসহ সাংগঠনিক দুর্বলতা রংপুরে বিএনপির ভরাডুবির কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক
সিটি করপোরেশন) আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতের রায়হান সিরাজী।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন পান ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। রংপুর-২
(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের এটিএম
আজহারুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলী সরকার পান ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। রংপুর-৩
(সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের
মাহবুবুর রহমান বেলাল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন
৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে
নির্বাচিত হয়েছেন এনসিপির আখতার হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল
হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ১ লাখ ৭৬ হাজার
৪১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের গোলাম রব্বানী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী
বিএনপির গোলাম রব্বানী পান ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ১
লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের নুরুল আমীন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী
বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
রংপুর-৩ আসনে জামায়াতের
প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, নির্বাচনে জামায়াত প্রমাণ করেছে রংপুর এখন
জাতীয় পার্টির নয়, জামায়াতের ঘাঁটি। আমরা সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি।
দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজিসহ কোনো অনিয়মে জড়িত ছিল
না। তাই এই নির্বাচনে রংপুরের ভোটাররা ন্যায়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লা
মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন।
সুজন রংপুর মহানগরের সভাপতি জোবাইদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির দুর্বলতার কারণে রংপুরের ৬টি
আসনে জামায়াতের জয় হয়েছে। দলের মধ্যে কোন্দল, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হওয়ায় এবার নির্বাচনে রংপুরে
দীর্ঘদিন পর বিএনপির জয়লাভের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে জামায়াত।
অপরদিকে জাতীয় পার্টি যে উদ্যোগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর কথা ছিল, আমরা সেটি দেখিনি।
তাই জাতীয় পার্টি আদৌ প্রতিযোগিতা করেছে কি না, তা নিয়ে ভোটারদের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
সেই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীরা জাতীয় পার্টির ভোটগুলো নিজেদের করে নিতে পারেনি। তাই
জামায়াত জোট ৬টি আসনেই বিজয়ী হয়েছে।