সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪২ এএম
ভোটে বিজয়ের পর মায়ের ভালোবাসায় সিক্ত শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও নির্মল ভালোবাসাÑ মায়ের ভালোবাসা। যে ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। জীবনের প্রতিটি স্তরে বিশেষ করে সন্তানের সংকট, সম্ভাবনা, সফলতার মুহূর্তে মায়ের নিঃস্বার্থ ও অতুলনীয় অনুভূতি বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বাড়িতে ঘটেছে; যা প্রত্যক্ষ করে হাজারো মানুষ হয়েছেন আবেগে আপ্লুত।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি। পরে জোটের স্বার্থে এ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়। বিএনপিতে যোগ দেওয়া জাতীয় জনতা পার্টির সৈয়দ এহসানুল হুদাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীকে অংশগ্রহণ করেন ভোটের মাঠে লড়াইয়ে। কারণ বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলায় তিনি প্রায় আড়াই দশক ধরে জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে বিএনপিকে সংগঠিত করেন। ফলে দলের একটি বড় অংশ তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ১২১ জন নেতাকর্মী দল থেকে বহিষ্কার হন। কিন্তু তারা নির্বাচন থেকে সরে যাননি।
শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের অশীতিপর মা সৈয়দা হাজেরা খাতুন শয্যাশায়ী হয়েও ছেলের দুঃসময়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় দিন গুনেন। রাত-দিন প্রচারণা শেষে গভীর রাতে মাকে দেখভাল না করে কখনও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিশ্রামে যাননি। এভাবেই মায়ের দোয়া-ভালোবাসা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ইকবাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরপর নির্বাচনী এলাকা নিকলীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। বিকালে বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরে দুপুরের খাবার খান। আবার ভোটের মাঠে ছোটেন। গভীর রাতে বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী ১৩০৯৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীক নিয়ে ৭৯ হাজার ২১০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৮ ভোট।
বিজয়ের খবর পাওয়ার পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ছুটে যান মা হাজেরা খাতুনের কাছে। মা ছেলেকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আনন্দ অশ্রু যেন উপস্থিত শত শত মানুষের মনকে নাড়া দেয়। এ সময় তার ছোট ভাই মার্কিন সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দনও উপস্থিত ছিলেন। পরে বিজয়ী ছেলেকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন মা। ইকবাল তার গলায় পরিহিত সবগুলো মালা মাকে পরিয়ে জড়িয়ে ধরে রাখেন অনেকক্ষণ। এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দিসহ ভিডিও হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ছেলের প্রতি মায়ের এ অকৃত্রিম ভালোবাসা উপস্থিত সবাইকে আবেগ আপ্লুত করে।
বাজিতপুরের রাজনীতিবিদ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মায়ের প্রতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তবে এ কথা সত্য, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বিজয়ের জন্য মায়ের দোয়া ছিল নিঃসন্দেহে। ছিল এলাকাবাসীর ভালোবাসাও।