ঢাকা-১৭ আসন
মজুমদার ইমরান
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২৪ এএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩৫ এএম
রাজধানীর বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠে সোমবার ঢাকা-১৭ আসনের এক জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ধানেষ শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাজধানীর গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। এবারের নির্বাচনে রাজধানীর দুটি ভিআইপি আসনের একটি। এখানে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. স ম খালিদুজ্জামান। উত্তর সিটি করপোরেশনের এই আসনটিতে দলগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়।
বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগ করছেন। ধানের শীষে ভোট চেয়ে মাঠে নেমেছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। ভোটাররা বলছেন, ‘তারেক রহমান বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।’ তবে জামায়াত প্রার্থীও হাল ছাড়েননি। তিনি সাড়া ফেলেছেন প্রচার-প্রচারণায়। গুলশান, বনানী ও মানিকদি নামাপাড়া, কড়াইল বস্তি ও ভাষানটেক সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দল বেঁধে ঢাকা-১৭ আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোট চেয়ে বিতরণ করছেন লিফলেট। দলের চেয়ারম্যানের নির্বাচনী আসন তাই নেতাকর্মীরা ছুটছেন ক্লান্তিহীন। ভোটারদের কাছে ভোটার স্লিপ পৌঁছানোসহ লিফলেট বিতরণ, পোস্টার-ফেস্টুন, রোড শোডাউন, মতবিনিময়ে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ‘অন্য প্রার্থী বিজয়ী হলে এমপি কিংবা মন্ত্রী হবেন; কিন্তু বিএনপি চেয়ারম্যান জয়ী হলে হবেন প্রধানমন্ত্রী। তাই তারেক রহমান ও ধানের শীষের বিকল্প ভাবনা অবাস্তব।’
আসনের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কাঁঠাল প্রতীকে কামরুল হাসান নাসিম। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মনজুর হুমায়ুন, আনোয়ার হোসেন মনজুর জাতীয় পার্টি-জেপি থেকে তপু রায়হান, জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙ্গল প্রতীকে আতিক আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ উল্যাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. শামীম আহমদ, জামায়াত জোটের বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) এসএম আবুল কালাম আজাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান খোকন ও কাজী এনায়েত উল্লাহ।
তবে আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের বাইরে অন্যদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাধারণের মধ্যে তেমন আলাপ-আলোচনা নেই। এ বিষয়ে মানিকদি নামাপাড়ার বাসিন্দা হিমেল মিয়া বলেন, ‘আগে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ভাবতে হতো। এবার ভাবছি না। কারণ আমাদের আসনে রয়েছেন ভিভিআইপি প্রার্থী।’
গুলশান কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী হেলিম উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কোথায় তারেক রহমান আর কোথায় অন্য প্রার্থী।’ কড়াইল বস্তির বাসিন্দা পোশাক কারখানা শ্রমিক শামসুন্নাহার বলেন, ‘জিয়ার পুত ছাড়া কাউরে ভোট দিমু না’। আগে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা অনেক কথা দিলেও কথা রাখেনি। এজন্য তিনি এবার ধানের শীষ ও তারেক রহমানকেই ভোট দেবেন বলে জানান।
আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭০৯ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬০ জন। তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৮ জন। রাজধানীর এই আসনের গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। ফলে এখানে রয়েছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও শান্ত পরিবেশ। তাই এলাকাটি পরিণত হয়েছে প্রভাবশালী রাজনীতিক, বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য শ্রেণির পছন্দের ঠিকানায়। ঠিক এর পাশেই মহাখালী, ভাষানটেকের বিশাল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন বস্তিতে রয়েছে বহু স্বল্প আয়ের মানুষের বসবাস। কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি এ আসনের অংশ। এজন্য ভোট এলে এসব বস্তির বাসিন্দারা হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ। অভিজাত আর সাধারণ শ্রেণির ভোট সমানভাবে যিনি টানতে পারবেন, তিনিই হাসবেন বিজয়ের হাসি।
গুলশান ও বনানীর বেশ কয়েকটি বাড়ির কেয়ারটেকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অ্যাপার্টমেন্ট-ভিত্তিক বাসাবাড়িতে খুব একটা ভোট চাইতে আসেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা শুধু মেইন রাস্তা ও অলিগলিতে প্রচারণা চালাতে দেখছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর স্বল্পসংখ্যক নারী নেতাকর্মী অনুমতি নিয়ে বাসাবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে ভোট চাইতে এসেছেন।
গুলশান-২ নং ওয়ার্ড জামায়াত নেতা তানভীরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘরে ঘরে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। যেখানে অনুমতি পাচ্ছি যাচ্ছি, আর সেখানে পাচ্ছি না সেখানে সিনিয়র নেতারা যোগাযোগ করছেন। আশা করছি ফলাফল দাঁড়িপাল্লার পক্ষেই আসবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘তারেক রহমান বিপুল ভোটে জিতবেন বলে শতভাগ আশাবাদী। দেশের সর্বস্তরের মানুষের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। তার হাত ধরে দেশে পরিবর্তন চান মানুষ। শুধু ঢাকা-১৭ আসনের ভোটাররাই নন, গোটা দেশের মানুষই তার জয় দেখার অপেক্ষায়।’
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, ‘ঢাকা-১৭-কে ‘সবার ঢাকা-১৭’ হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্যে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে ঢাকা-১৭ হোক সবার জন্য। নিরাপদ, বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা-১৭ই আমাদের প্রতিশ্রুতি।’