ঢাকা-১১
কবির হোসেন
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫২ এএম
নাহিদ ইসলাম এবং এমএ কাইয়ুম। ছবি: সংগৃহীত
আর মাত্র দুই দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীরা। ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে তারা তুলে ধরছেন নিজ নিজ পরিকল্পনা ও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এর বাইরে নেই ঢাকা-১১ আসনও। ভাটারা থানার নতুন বাজার, বারিধারার একটি অংশ, বাড্ডা থানা এলাকা, রামপুরা থানার টিভি সেন্টার, আফতাবনগর আবাসিক এলাকা, বনশ্রীর একাংশ, মহানগর প্রজেক্ট, মালিবাগ-চৌধুরীপাড়া নিয়ে গঠিত এই আসন। এখানে উচ্চ, মধ্য, নিম্নÑ তিন শ্রেণির মানুষেরই বসবাস।
ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যিনি এলাকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবেন, তাকেই ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চান তারা। তবে ভোট ঘিরে অনেক ভোটারের মধ্যেই রয়েছে ভয় ও উদ্বেগ। ভোটের দিন তারা এমন পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন, যেখানে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।
উত্তর বাড্ডার আলীর মোড়ে কথা হয় ফজলুল হক নামে এক ভোটারের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এমএ কাইয়ুম। তার মতে, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অন্য প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফজলুল হক দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ এলাকায় প্রধান তিনটি সমস্যা হলো গ্যাস সংকট, পানি সংকট ও যানজট। তাদের পছন্দের প্রার্থী জয়ী হয়ে সংসদে গিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করবেনÑ এমনটাই প্রত্যাশা তার।
একই সুরে কথা বলেন রামপুরা এলাকার ভোটার রাসেল মিয়া। তিনি বলেন, মাঠে মূলত দুই দলের প্রার্থীদেরই দেখা যাচ্ছে, অন্যদের তেমন চোখে পড়ে না। তার মতে, বিএনপি প্রার্থী এমএ কাইয়ুমকে যেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে, সে তুলনায় এনসিপির নাহিদ ইসলামকে তেমন দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এলাকায় কিছু উন্নয়ন থাকলেও মাদক, মশার উপদ্রব ও গ্যাস সংকট এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।
আরেক বাসিন্দা ডা. আয়েশা আক্তার মিলি বলেন, এলাকাজুড়ে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। যিনি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাবেন, তার কাছে প্রত্যাশা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা, মাদকমুক্ত সমাজ গড়া এবং এলাকার নারীদের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
অপরাধ দমনে এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী এমএ কাইয়ুম। তিনি বলেছেন, প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নাইটগার্ডের ব্যবস্থা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হবে, যাতে অপরাধীরা মাথাচাড়া দিতে না পারে।
এমএ কাইয়ুম বলেন, আমরা তরুণদের হাতে মাদক নয়, তুলে দেব বই, খেলাধুলার সুযোগ ও কর্মসংস্থান। শেষে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা-১১ আসনকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এই আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিএনপি প্রার্থী এমএ কাইয়ুম ও নাহিদ ইসলামÑ উভয়ের প্রার্থিতাই বৈধ বলে ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর আপিলের সুযোগের সময়সীমাও শেষ হয় এবং দুই প্রার্থীই প্রচারণায় নামেন। তবে নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে পরিস্থিতিতে জটিলতা দেখা দেয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আদালতে রিট করেন নাহিদ ইসলাম। রিটে তিনি অভিযোগ করেন, কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, যা সংবিধান পরিপন্থী। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই রিট খারিজ করে দেন। রিট খারিজের চার দিন পর বিষয়টি নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন নাহিদ ইসলাম। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন, যা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দ্বৈত নাগরিক বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।
এই আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। অন্য প্রার্থীরা হলেনÑ ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) কাজী মো. শহীদুল্লাহ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মো. জাকির হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. আরিফুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি। ঢাকা-১১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন ও নারী ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন। ভোটারদের মতে, ঢাকা-১১ আসনের মূল লড়াই হবে এমএ কাইয়ুম (ধানের শীষ) এবং নাহিদ ইসলামের (শাপল কলি) মধ্যে।