ঢাকা-১০
কবির হোসেন
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৩ এএম
ঢাকা-১০ আসনের ভোটার ও বাসিন্দাদের দাবি ও প্রত্যাশা অনেক। তারা চান, যিনিই সংসদে যাবেন তিনি যেন এলাকার সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হন।
ঢাকার ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ সংসদীয় আসন। আসনটি বাণিজ্যিক ও আবাসিকÑ দুদিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ভিআইপি এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও স্থানীয়রা নানা সমস্যায় জর্জরিত। রয়েছে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজট।
নিত্য এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী। ফলে যার হাত ধরে এলাকায় উন্নয়ন আসবে, ভোটারদের সিদ্ধান্ত তাকেই ভোট দিয়ে সংসদে পাঠানোর। স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনে আগে এলাকায় উন্নয়নের ইশতেহারে অনেক কিছুই বলা হয়, বহু প্রতিশ্রুতিও দেন প্রার্থীরা। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পরই ভুলে যান সব। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয় না।
এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ঘিরে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার ও বাসিন্দাদের দাবি ও প্রত্যাশা অনেক। তারা চান, যিনিই সংসদে যাবেন তিনি যেন এলাকার সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হন। এছাড়া ধানমন্ডি লেকের আধুনিকায়ন, নিরাপদ ও মনোরম করে গড়ে তোলার দাবিও তাদের।
জাতীয় সংসদের ১৮৩ নম্বর আসন ঢাকা-১০ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড তথা ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪ হাজার ৬০৪, নারী ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির শেখ রবিউল আলম (ধানের শীষ) প্রতীকে, জাতীয় পার্টির বহ্নি বেপারী (লাঙ্গল), জামায়াতে ইসলামীর জসীম উদ্দীন সরকার (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়াল (হাতপাখা), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আবু হানিফ হৃদয় (হাতি), বাংলাদেশ লেবার পার্টির আবুল কালাম আজাদ (আনারস), আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) নাসরীন সুলতানা (ঈগল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আনিছুর রহমান (ছড়ি), আমজনতার দলের আব্দুল্লাহ আল হুসাইন (প্রজাপতি) ও জনতার দলের জাকির হোসেন (কলম) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সংসদীয় আসনের কয়েকটি ওয়ার্ড সরেজমিন ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘গ্যাসের লাইনে অল্প গ্যাস বা গ্যাস না থাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দিনের বেলায় গ্যাস পাওয়াই যায় না। রাতেও লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকে। ফলে রান্না করতে অনেক সময় লাগে। এই সংকটে বিকল্প জ্বালানির জন্য ব্যয় হচ্ছে বাড়তি অর্থ। অন্যদিকে নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগে জলাবদ্ধতা নিয়মিত সমস্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে। এ ছাড়া ধানমন্ডি-২৭, শুক্রাবাদ, নিউমার্কেট এলাকায় রোজ যানজটে নাকাল হতে হয়। সড়কগুলোতে দিনভর যানজট লেগেই থাকে।
আসনটির ১৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার ও শুক্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেব, যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন। আগেও ভোট দিয়েছি। কিন্তু বৃষ্টি হলে বাসা থেকে বেরুতে পারি না। রাস্তায় হাঁটুপানি। রান্নার চুলায় গ্যাসে চাপ কম। চলতে-ফিরতে আমাদের নানা সমস্যা। আশা করি, বিজয়ী প্রার্থী এলাকার দিকে নজর দেবেন।’ একই ওয়ার্ডের ভোটার কলাবাগানের বাসিন্দা বায়িং হাউসের চাকরিজীবী শফিকুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা গ্যাস আর পানি। এসব সমস্যার সমাধান হলে বসবাস স্বস্তিদায়ক হবে।’ কাকে ভোট দেবেন, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। যিনি ভালো, তাকেই ভোট দেব।’
ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী তানিয়া বেগম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দেন প্রার্থীরা। কিন্তু বাস্তবে কতটুকু উন্নয়ন করেন সেটা দেখার বিষয়।’ নিজের ভোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘কাউকে না কাউকে তো দেব। তবে কাকে দেব, তা বলতে চাই না।’ তিনি ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন, লেকটিকে কীভাবে আধুনিক করা যায়Ñ সে বিষয়েও জয়ী প্রার্থীর ভাবনা থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন ভোটার ও বাসিন্দা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ঢাকা-১০ আসন বিএনপির ঘাঁটি। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। তবে আমরা এখনও শঙ্কা করছি দেশে সুষ্ঠু ভোট হবে কি না। গুপ্ত ভোট হলেও তো আমরা ভোট দিতে পারব না। আমরা চাই সুষ্ঠু ভোট হক, যেন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করতে পারি। তারা আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম এগিয়ে। দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকার। ভোটে এ দুজনের মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলেও তারা মত দেন।
হাজারীবাগের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, ঢাকা-১০ আসনের অন্যান্য এলাকা থেকে হাজারীবাগ একটু ভিন্ন। কারণ এলাকায় মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও এলাকায় প্রায়ই দেখা যায়। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সাধারণ মানুষের উন্নয়নে নির্বাচিত প্রার্থীর কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
ভোটাররা বলছেন, এলাকায় হাজারো সমস্যা। তবে উন্নয়নের জন্য সদিচ্ছা, উদ্যোগ ও আন্তরিক নেতৃত্ব থাকলে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।