সুজনের সংবাদ সম্মেলন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২৫ এএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৪ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসব ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর মধ্যে ৭৫ জনের ঋণের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি, যা ঋণগ্রহীতা প্রার্থীদের ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
দলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রহীতা প্রার্থী রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। দলটির ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের যথাযথ যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে পর্যবেক্ষক নিয়োগ ইসির জন্য একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কিছু কিছু দলের মধ্যে সেই ঐক্য দেখা যাচ্ছে না। তবে সবার দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবÑ এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার জানান, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৪১ শতাংশের (৮৩২ জন) বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকার নিচে। ৯৫ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার বেশি। পাঁচ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে আয় রয়েছে ৭৪১ জনের। ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মধ্যে আয় রয়েছে ৭১ জন প্রার্থীর। তবে ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি।
তিনি জানান, শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহেরÑ তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম (প্রায় ৪০ কোটি টাকা) এবং তৃতীয় অবস্থানে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী (প্রায় ১৯ কোটি টাকা)। তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, কায়সার কামাল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুজনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।