× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাতেও নতুনত্ব তারেক রহমানের

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৬ এএম

দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাতেও নতুনত্ব এনেছেন তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে

দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাতেও নতুনত্ব এনেছেন তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে

স্বদেশে ফিরে নিজের প্রত্যাবর্তন-বক্তৃতার মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে নতুনত্বের হাওয়া ছড়িয়েছেন। তারপর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাতেও নতুনত্ব এনেছেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ইশতেহার প্রচলিত নিয়মে ঘোষণা না করে অনেকটা ন্যারেটিভলি তুলে ধরেছেন তিনি।

দলের অবস্থানের পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও বর্ণনা করেছেন এই প্রক্রিয়াতে। তার এই ইশতেহার উপস্থাপনার নতুনত্ব ও অভিনবত্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিক থেকে শুরু করে উপস্থিত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং বিদেশি কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের করেছে চমৎকৃত।

গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকার অভিজাত হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে র্নিধারিত সময় বেলা ৩টাতেই বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মহাসচিবের বক্তব্যের পর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বিএনপির চেয়ারম্যানকে ইশতেহার উপস্থাপনের জন্য আহ্বান জানানোর সময় নিজেই নাতিদীর্ঘ বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় অনেকটা বিরক্ত হয়েই তাকে থামিয়ে দেন দলের চেয়ারম্যান। পরে ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রথমেই তিনি অভ্যাগত অতিথিদের সাদর সম্ভাষণ জানান। বিদেশি কূটনীতিকদের লক্ষ করে তিনি ইংরেজিতে বক্তব্য দেন।

এ সময়ে তারেক রহমান বিদেশিদের উদ্দেশে বলেন, তিনি তার মাতৃভাষা বাংলায় ইশতেহার উত্থাপন করবেন, যা অতিথিদের বোধগম্য হবে না। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এই ইশতেহার ইংরেজি ভাষাতেও অনুবাদ করা হয়েছে। যার কপি ইতোমধ্যেই তাদের দেওয়া হয়েছে। বিদেশি অতিথিরা ইংরেজি ভার্সন অনুসরণ করলেই সব বুঝতে পারবেন। 

নির্বাচনি ইশতেহারটি বাংলা ও ইংরেজিতে বুকলেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এটি বাংলায় পাঠ করেন; তবে পাশাপাশি এটি ইশারা ভাষাতেও উপস্থাপন করা হয়, যা সবার দৃষ্টি কাড়ে।

সাধারণত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেটির পুরোটিই লাইনের পর লাইন ধরে পড়ে থাকেন। কিন্তু তারেক রহমান ইশতেহার উপস্থাপনে নতুনত্ব যুক্ত করেন।

এ সময় তিনি বলেন, “আমি পুরো ইশতেহার পড়ব না। ইশতেহারের কপি আপনাদের হাতে রয়েছে। আমি উল্লেখযোগ্য অংশগুলো সম্পর্কে বলব, যাতে আপনাদের বিরক্তির উদ্রেক না হয়।”

এর পর তিনি নির্বাচনি ইশতেহারের ৫টি অধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য ৫১টি দফার উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পর্কে তার নিজের এবং দলের অবস্থান বর্ণনা করেন। এভাবে ইশতেহার উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দলের দর্শনের সঙ্গে কর্মসূচি ও কার্যক্রমকে সমন্বিত করে জাতির সামনে তুলে ধরেন, যা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; তবে সব নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা-আমলে ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান শহিদ হওয়ার পর দলের হাল ধরেন তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্বেই ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। দেশকে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনি ঐতিহাসিক অবদান রাখেন।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সেই সংসদ খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথম বিরোধী দলের নেতার আসনে বসেন।

এরপর ২০০১ সালে ১ অক্টোবরের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনেও দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি দল অথবা জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।

এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। ২০১৮ সালে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও খালেদা জিয়া তখন কারাগারে ছিলেন।

সে সময়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন।

কিন্তু সরকারি দুঃশাসন ও প্রশ্নবিদ্ধ গণতন্ত্রের কারণে সেই নির্বাচন বয়কট করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিত এই নির্বাচনের আট মাসের মাথায় শেখ হাসিনার শাসনামলের অবসান ঘটে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পরে দেশে ফিরে এবং মায়ের মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে আসেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণায় ছিল আধুনিকতার ছাপ। সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমের দুই পাশে বিশাল এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এক-একটি অধ্যায় ও দফা।

সেই অধ্যায়ের মূল পয়েন্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্রাফিক্স ও এনিমেশন। একপাশে বাংলা এবং অন্য পাশে ইংরেজি ভাষায় তুলে ধরা এই পয়েন্টগুলোর দিকে বিদেশি কূটনীতিকসহ আমন্ত্রিত সবার দৃষ্টি যাচ্ছিল বার বার। হাতে পাওয়া নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে মিলিয়ে মনোযোগী পাঠকের মতো সেটি পড়তে দেখা যায় তাদের সবাইকে।

তারেক রহমান প্রায় ১২৩ মিনিট বা দুই ঘণ্টা তিন মিনিট দাঁড়িয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। সে সময়ে তার পরনে ছিল ব্ল্যাক ব্লেজার এবং তার ট্রেডমার্ক সাদা শার্ট।

শেষের দিকে এসে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আপনাদের একটি সুখবর দিচ্ছি, আমি আর দশ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করব।”

ইংরেজি ভাষায়ও যখন তিনি কূটনীতিকদের দিকে তাকিয়ে একই কথা বলেন, তখন তাদের অনেকেই মৃদু হেসে ওঠেন। তারেক রহমান অবশ্য ১০ মিনিটের আগেই তার এই ঘোষণার ৪ মিনিট ২১ সেকেন্ডের মাথায় বক্তব্য শেষ করেন।

নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা শেষে অভ্যাগত অতিথিদের জন্য ছিল আপ্যায়নের ব্যবস্থা। ‘হাই টি’ হিসেবে পরিচিত এই নাস্তাপর্ব ছিল বেশ উপভোগ্য। তবে এতসব ভালোর মধ্যেও আয়োজনে বিশৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো।

কূটনীতিকদের নির্ধারিত আসন দখল করে রেখেছিল রাজনৈতিক নেতারা। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বসার জায়গার ক্ষেত্রেও ছিল বিশৃঙ্খলা।

দলের অনেক নিচু সারির নেতা এমনকি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থীর কর্মী পরিচয় গলায় ঝুলিয়ে কয়েকজন পুরুষ ও নারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এই নেতাকর্মীরা ব্যস্ত ছিলেন ছবি তোলা, ভিডিও করা এমনকি উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলা নিয়ে।

দলের চেয়ারম্যানের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার সময়ে সোনারগাঁওয়ের বলরুমে নেতাকর্মীরা যখন উচ্চস্বরে পারস্পরিক গসিপে ব্যস্ত তখন ভেতরের পরিবেশ নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন দলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবিরকে বিভিন্ন সারিতে আলোচনারত নেতাকর্মী এমনকি কয়েকজন সাংবাদিককেও কথা না বলতে হাতজোড় করে অনুরোধ করতে দেখা গেছে। ইশতেহার ঘোষণা শেষে উপস্থিত অনেককে নাস্তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা