প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৩ পিএম
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১২ পিএম
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুক্রবার বিকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪৪ পৃষ্ঠার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুক্রবার বিকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
সেখানে বলা হয়েছে, বিএনপি দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন করার লক্ষ্যে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রভিত্তিক শিল্প ও প্রযুক্তির উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ করা হবে।
খাদ্য, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বারোপ
সুনীল অর্থনীতিকে জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সুনীল অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। সামুদ্রিক সম্পদ জরিপ ও মজুত ভিত্তিক আহরণ নীতি চালু করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি, মৎস্য আহরণ, দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করা হবে।
পরিমিত মৎস্য আহরণ ও লুণ্ঠন প্রতিরোধ
দেশের সমুদ্র সম্পদের পরিমিত উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। মৎস্য আহরণে আধুনিক জাহাজের ব্যবহার এবং মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। গম্ভীর সমুদ্রে অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। পাশাপাশি, গভীর সমুদ্রে নজরদারি ও টহল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশীয় জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বৈরী শক্তির লুঠন। থেকে সমুদ্র-সম্পদ রক্ষা করা হবে।
সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বারোপ
সামুদ্রিক শৈবালসহ আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাসম্পন্ন অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার চাষে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হবে। সেইসঙ্গে মেরিন ফিশারিজ ও সামুদ্রিক থাবার প্রক্রিয়াজাতের মতো অর্থকরী শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ
সমুদ্র ব্লকগুলোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের অংশীদারিত্বে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সুনীল কর্মসংস্থান কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন
উপকূলীয় তরুণ প্রজন্ম ও জেলে পরিবারসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সমন্বিত সুনীল কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ব্লু অ্যামপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রাম) তৈরি করা হবে। উপকূলীয় এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম শিল্প গড়ে তুলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে।
জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা
নীতি সমন্বয়, লাইসেন্সিং নিয়ন্ত্রণ ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার সহজীকরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে 'জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ' প্রতিষ্ঠা করা হবে। সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য 'বিশেষায়িত গবেষণা সেল' গড়ে তোলা হবে।
নিরাপদ জাহাজ ভাঙা এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিকাশ
জাহাজ ভাঙা এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে বাংলাদেশকে নতুন জাহাজ রপ্তানির হাবে পরিণত করা হবে। পাশাপাশি, গ্রিন শিপ-ব্রেকিং ট্রানজিশন কার্যকর করে হংকং কনভেনশন মানের নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শিল রিসাইক্লিং নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা ও শিল্পখাতে ‘মেরিটাইম ইনোভেশন ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের অংশীদারিত্বে সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন তহবিল 'মেরিটাইম ইনোভেশন ফান্ড' প্রতিষ্ঠা করা হবে। ব্লু ফাইনান্সকাঠামো গড়ে ‘ব্লু-বন্ড’ এবং ‘টেকসই সামুদ্রিক বিনিয়োগ ফান্ড’ চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।
শিল্পের কাঁচামাল
সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারে সমুদ্রের বিভিন্ন অণুজীব, শৈবাল ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হবে।
বন্দর উন্নয়ন ও সুনীল অর্থনীতিতে জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা
জাতীয় শিপিং, নৌবহর পুনর্গঠন, বন্দর আধুনিকীকরণ ও বাণিজ্য সহজীকরণ করা হবে। নাবিক প্রশিক্ষণ আধুনিক করে আন্তর্জাতিক চাকরি নিশ্চিত করা হবে। সমুদ্র আহরণ ও উপকূল সুরক্ষায় বনায়ন ও জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
জাস্ট ট্রানজিশন ফ্রেমওয়ার্ক অগ্রাধিকার প্রদান
সমুদ্র-ভিত্তিক সম্পদ আহরণ ও সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জাস্ট ট্রানজিশন ফ্রেমওয়ার্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে সমুদ্র-সম্পদ আহরণ কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন করতে গিয়ে জনগণ, তাদের জীবিকা এবং পরিবেশের ক্ষতি সাধিত না হয়।
বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা
সামুদ্রিক অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য (ফ্লোরা ও ফণা) রক্ষা, টেকসই আহরণ, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।