× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচনী আসন ঢাকা-৭

ভোটের দৌড়ে এগিয়ে বিএনপি, গোপন ভোটব্যাংকে ভরসা জামায়াতের

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৪৪ এএম

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫০ এএম

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। ভোটারদের মন জয় করতে তারা নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আওড়াচ্ছেন। ভোটাররাও হিসাব কষছেন কাকে ভোট দিলে পাশে পাবেনÑ এলাকার জগদ্দল পাথরের মতো বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। সারা দেশের সঙ্গে এ ধরনের হিসাব মেলাচ্ছেন ঢাকা-৭ আসনের ভোটাররাও। এ আসনে কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। কেউ কেউ বলছেন ভোটের দৌড়ে এগিয়ে আছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোটের প্রার্থী হামিদুর রহমান। আবার কারও দাবি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফেজ মো. এনায়েত উল্লাহর রয়েছে গোপন ভোটব্যাংক। 

কে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন 

ঢাকা-৭ আসনটি কোতোয়ালি থানার একটি ওয়ার্ড, বংশালের ৩টি ওয়ার্ড এবং চকবাজার, লালবাগ ও কামরাঙ্গীচর থানার সকল ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আসনটির বিভিন্ন থানায় ভিন্ন ভিন্ন চিত্র সামনে আসছে। তবে বেশিরভাগ অঞ্চলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদের পাল্লা ভারী। আবার জামায়াতের গোপন ভোটব্যাংক পাল্টে দিতে পারে চিত্র। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহও জয়ের রেসে আছেন ভালাভাবেই। জামায়াতের ডোর টু ডোর গোপনে গোপনে প্রচারণার সঙ্গে রয়েছে গোপন ভোটব্যাংক।

আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ, জামায়াতে ইসলামীর হাফেজ হাজী মো. এনায়াত উল্লাহ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. শহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) মোহাম্মদ ইসহাক সরকার, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির শফিকুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) শাহানা সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সীমা দত্তসহ ১১জন। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। সেখানে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ ও নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ জন। 

জনপ্রত্যাশা কী

   বা 

জনতার বিশ্লেষণ

গত রবিবার সরেজমিন, ঢাকা-৭ আসনের বংশাল, চকবাজার, লালবাগ ও কামরাঙ্গীচরসহ বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ও সেখানকার ভোটার এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অবর্তমানে আসনটিতে সুবিধা এনে দিয়েছে বিএনপিকে। 

আবার অনেকে মনে করছেন জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়াত উল্লাহর রয়েছে গোপন ভোটব্যাংক। কেননা জামায়াতের নারীদের একটি বিশাল অংশ বিভিন্ন ঘরে ঘরে গিয়ে তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার। সেখানে বিএনপির ভোট দুই ভাগ হয়ে গেলে ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে পারেন জামায়াত প্রার্থী। এতে করে বিএনপি প্রার্থী হবে পরাজিত। 

আসনটিতে কী কী সমস্যার সমাধান চান বাসিন্দারা

চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর এলাকার ভোটার ও সাধারণ মানুষ জানান, এসব অঞ্চলে যানজট, দুর্গন্ধযুক্ত পানি, মাদকের ছড়াছড়ি, গ্যাস সংকট অন্যতম প্রধান সমস্যা। বংশাল ও কোতোয়ালিতে যানজট ও পয়োনিষ্কাশন বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। 

রবিবার বেলা ১১টায় কথা হয় চকবাজারের ওয়াটার ওয়ার্ক্স রোডের বাসিন্দা ও বিএনপির নেতা এসএইচ মিন্টুর সঙ্গে। তিনি বলেন, যানজটে আমরা নাকাল। এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সময় দিতে হয় এক ঘণ্টা। আমরা যানজটমুক্ত অঞ্চল চাই। একই এলাকার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা। এসব চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। আগামীতে যিনি আমাদের এমপি হবেন তার দায়িত্ব হবে মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা। 

লালবাগ কেল্লা অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. তামিম বলেন, এ অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব। এলাকায় বর্তমানে শিক্ষার হার বেশ বেড়েছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন জরুরি। 

একই এলাকার মালেকা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের পুরান ঢাকার মানুষ এমনিতেই কম শিক্ষিত। তার ওপর যারা পড়াশোনা করেছে তারা চাকরি পায় না। যত টাকা খরচ হয় পড়ালেখা করতে, তেমনি চাকরি আবেদনেও অনেক টাকা চলে যায়। আমার ছেলে অনার্স পাস করে একের পর এক আবেদন করছে, চাকরি নেই। গৃহবধূ তানজিম ফাতেমা বলেন, আমাদের অঞ্চলে গ্যাসের সংকট প্রকট। বিদ্যুতের ভুয়া বিলের কারণে অতিষ্ঠ। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেন এসব সমস্যা সমাধান করেন। 

কামরাঙ্গীরচর অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা ভয়াবহ। পুরাতন বুড়িগঙ্গা নদীটি শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সামান্য পানি আছে। সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদী ভরাট করা হচ্ছে। দুর্গন্ধে টেকা দায়। এলাকাটির বাসিন্দা মো. রিয়াদুল হক বলেন, আমাদের এই বুড়িগঙ্গা নদীটি ড্রেজিং করা দরকার। এটি সচল হলে এলাকায় রোগবালাই কমবে। দুর্গন্ধে টেকা যায় না। একই এলাকার ফার্মেসির ব্যবসায়ী করেন মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কামরাঙ্গীরচরে গ্যাসের লাইন নেই। আমরা সিলিন্ডার ব্যবহার করি। আমাদের দাবি যিনি এমপি হবেন তিনি এ অঞ্চলে জ্বালানির জন্য গ্যাসের ব্যবস্থা করুক। তা ছাড়া এখানে ওয়াসার কোনো লাইন নেই। আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন করতে হয়েছে। এখানে ওয়াসার পানি সরবরাহ করতে হবে। তা ছাড়া মাদকের ছড়াছড়ি। বংশালের মুকিমবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মাইমুদ্দিন বলেন, পুরান ঢাকা ব্যবসায়ী একটি অঞ্চল। যানজটের কারণে আমাদের ব্যবসা ভালো হয় না। আমাদের এসব অঞ্চলে যানজট নিরসন করা দরকার। 

কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা

ঢাকা-৭ আসন নিয়ে হামিদুর রহমান হামিদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে আমাদের এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যা গ্যাস পাওয়াটা নিশ্চিত করব। কেননা মা-বোনরা সকালের নাশতা তৈরি করতে হিমশিম খায়। আমরা প্রথমে এটি সমাধানের চেষ্টা করব। তারপর এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নিরসন, মাদকমুক্তকরণের কাজ করব। তা ছাড়া কামরাঙ্গীরচরটি খুবই অবহেলিত। সেখানে বসবাস উপযোগী অঞ্চল তৈরিতে কাজ করব। 

তিনি বলেন, ঢাকা-৭ আসনের জনগণ এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা জনগণের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করে তাদেরকে সুন্দর একটি জীবন উপহার দেব।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন আহম্মেদ মিলন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে লালবাগ কেল্লার মোড় থেকে চকবাজারের উদ্দেশে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি মিছিলের নেতৃত্ব ও জনসংযোগ করছিলেন। এ সময় প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জন্ম এ অঞ্চলে। গত ৪০ বছর ধরে এখানকার মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। জনগণ আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করলে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-৭ আসনের উন্নতি করব। 

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হাজী মো. এনায়েত উল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমার আসনে যানজট, গ্যাস সংকট, মাদকের ছড়াছড়িসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচিত হলে পর্যায়ক্রমে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদীটি নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ করা হবে। 

তিনি নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, পুরান ঢাকার মানুষ আমার পক্ষে আছে। আশা করি নির্বাচনে তারা দাঁড়িপাল্লাকে জয়যুক্ত করবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা