গার্ডিয়ান
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৬ এএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৭ এএম
পলাতক আওয়ামী লীগ রাজনীতিবিদরা ভারতে বসেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক কষছেন। স্ক্রিনশট: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের একাংশ
মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশে তারা এখন অপরাধী ও পলাতক হিসেবে চিহ্নিত। তবে কলকাতার শপিং মলের জনাকীর্ণ ফুড কোর্টে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে ব্ল্যাক কফি আর ভারতীয় ফাস্ট ফুড খেতে খেতে পলাতক আওয়ামী লীগ রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক কষছেন।
বাংলাদেশে ১৬ মাসেরও বেশি আগে স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক বিপ্লব তাকে নাটকীয়ভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের ঢল তার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে উড়াল দেন। পেছনে রেখে যান রক্তাক্ত পথ। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে প্রায় এক হাজার চারশো জন নিহত হয়।
মব ভায়োলেন্স থেকে বাঁচতে এবং হাসিনার শাসনামলে করা নানা অপরাধের কারণে ক্রমাগত ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়ে তার দলের হাজারও নেতা-কর্মী পালিয়ে যায়। দলটির ৬০০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী কলকাতায় আশ্রয় নিয়ে এখনও আত্মগোপনে আছে।
আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর ভারত
আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম ও সংগঠন টিকিয়ে রাখতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগ এবং এর সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
এতে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ ও প্রচার চালাতে পারবে না।
প্রকাশ্যে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা হাসিনার
জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন।
তবে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি দেখার পরিবর্তে হাসিনা এই রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন এবং প্রকাশ্যে ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন, যার মধ্যে আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করতে হাজারও সমর্থককে সংগঠিত করেছেন।
ভারতের সরকারের জ্ঞাতসারেই চলছে হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তার কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত গোপন আস্তানা থেকে, হাসিনা দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও কর্মীদের সঙ্গে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকেন। তার এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভারতের সরকারের জ্ঞাতসারেই পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত সরকার তাকে প্রত্যর্পনে বাংলাদেশের অনুরোধও স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করেছে।