প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৮ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার যৌথ বিবৃতি দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ নারী প্রার্থী। ছবি: বাসস
নারীদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ নারী প্রার্থী।
বাসদ (মার্কসবাদী)-এর ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী সীমা দত্ত সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নারী প্রার্থীরা হলেন— রংপুর-৪ আসনের প্রগতি বর্মণ তমা, গাইবান্ধা-৫-এর রাহেলা খাতুন, জয়পুরহাট-১-এর তৌফিকা দেওয়ান লিজা, ঢাকা-৫-এর শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৭-এর সীমা দত্ত, গাজীপুর-১-এর তসলিমা আক্তার বিউটি, মৌলভীবাজার-২-এর সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৫-এর মুনতাহার প্রীতি, চট্টগ্রাম-১০-এর আসমা আক্তার এবং চট্টগ্রাম-১১-এর দীপা মজুমদার।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণে নারীরা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বে আসার অনুপযুক্ত’। তিনি আরও বলেন, কোনো নারী জামায়াতের প্রধান হতে পারে না।
এ ছাড়া ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি পোস্টে নারীদের কর্মজীবনকে ‘পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও পরবর্তীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১ ফেব্রুয়ারি জামায়াত আমিরর তার অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “জামায়াত রাজনীতি ও স্থানীয় সরকারে নারী নেতৃত্ব, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্মানকে সমর্থন করে”।
১০ নারী প্রার্থী তাদের বিবৃতিতে বলেন, “আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্য একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের প্রশ্ন, যদি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস থাকে, তবে কেন নারীরা দলের শীর্ষ পদে আসতে পারবেন না—এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এতে জামায়াতের ইশতেহারে উল্লিখিত অবস্থানের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতেও জামায়াতের বিভিন্ন নেতা নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। সর্বশেষ বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান ডাকসু সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ‘বেশ্যাখানা’ শব্দ ব্যবহার করেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
নারী প্রার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবনায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের সুপারিশ থাকলেও জামায়াতে ইসলামী একজন নারী প্রার্থীও মনোনয়ন দেয়নি। এ ঘটনাকে তারা দলটির দ্বৈত অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতের প্রচারপত্র ও ইশতেহারে নারীবান্ধব ভাষা ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে দলটি নারীদের বিষয়ে গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে ব্যর্থ। ইসলামের ইতিহাসে নারী নেতৃত্বের বহু দৃষ্টান্ত থাকলেও জামায়াত আমিরের বক্তব্য তা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিবৃতির শেষাংশে বাসদ (মার্কসবাদী)-এর নারী প্রার্থীরা জামায়াত আমিরের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের চিন্তা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে নারীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য ও অবমাননাকে আরও গভীর করবে”।