বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫০ পিএম
ছবি: বাসস
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর পৈতৃক জেলা বগুড়ায় যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে রবিবার বিকালে এই তথ্য জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।
রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “মাঠের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। তারেক রহমান আগামী ২৮ জানুয়ারি রাজশাহীতে একটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। সেখান থেকে সড়কপথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে ২৯ জানুয়ারি বগুড়ায় পৌঁছাবেন। ২৯ তারিখ তিনি বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন। পরের দিন ৩০ জানুয়ারি তিনি বগুড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াসহ বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন”।
লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ উত্তরবঙ্গ সফর। এর আগে তিনি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। গত কয়েক দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত বড় জনসভাগুলোতে অংশ নিয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রার্থী হিসেবে তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। বগুড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসনগুলোর একটি বগুড়া-৬ (সদর)। এটি বগুড়া জেলার ৪১ নম্বর সংসদীয় আসন। সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১০ জন।
ঐতিহাসিকভাবে বগুড়া-৬ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা চারবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হন প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১—এই তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন বেগম জিয়া। পরে তিনি ফেনী-১ আসনটি প্রতিনিধিত্ব করায় বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালের এপ্রিলে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জমির উদ্দিন সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন রাগিবুল আহসান রিপু। তবে তিনি পরে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমরের পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে ওই নির্বাচনে নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেড় লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমরকে পরাজিত করেন। তবে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৯ সালের ২৪ জুন অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সবশেষ ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রাগিবুল আহসান রিপু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।