প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩২ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৮ পিএম
ঢাকার গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে শনিবার দুপুরে ‘আমরা ভাবনা বাংলাদেশ’ শীর্ষক ‘জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায়’ বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমা। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
দেশের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, এই দুটি বিষয়কে সমাধান করা গেলে অন্যান্য সমস্যার অনেকাংশে সমাধান হয়ে যাবে।
ঢাকার গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে শনিবার দুপুরে ‘আমরা ভাবনা বাংলাদেশ’ শীর্ষক ‘জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায়’ বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান।
বিজয়ীরা তাদের নানা জিজ্ঞাসা তুলে ধরলে তারেক রহমান সেগুলোর বিষয়ে খোলামেলা জবাব দেন।

দেশের যেসব সমস্যা আছে একবারে তার সমাধান কারও পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা… একবারে কারও পক্ষে সম্ভব না। জিনিসপত্রের দাম যে বেশি এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। কৃষককে যে একটা ইনসেনটিভ দিতে হবে। যেটা আমরা কৃষি কার্ডের মধ্যে রেখেছি। আপনাদের রিলের মধ্যে উঠে এসেছে। একইভাবে, আমাদের এই জিনিসগুলার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। এইগুলার প্রতিও যত্নশীল হতে হবে।”
দেশের যেসব সমস্যা আছে—সবার আগে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে অনেকাংশে অন্যান্য সমস্যাও সমাধান হবে বলে মনে করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “একটা কোনো সমস্যার জন্য একটা কারণ দায়ী না, একসাথে অনেকগুলো কারণ দায়ী; আমাদের একটা একটা করে সেগুলো এড্রেস করতে হবে।
“তবে সবচেয়ে আগে যেটা করতে হবে, আমরা মনে করি, আমি মনে করি, দুটো বিষয়কে বাই এনি মিনস আমাদের এড্রেস করতে হবে। আমরা যে-ই পরিকল্পনাই করি না কেন ফ্যামিলি কার্ড হোক, কৃষক কার্ড হোক, এনভায়রনমেন্ট হোক, খেলাধুলার ব্যাপারে হোক, যেটাই আমরা করি না কেন, আমাদেরকে একটা জিনিস এনশিওর করতে হবে একটা হচ্ছে— ল অ্যান্ড অর্ডার। অর্থাৎ মানুষ... যাতে সবাই রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারে। এটা এনশিওর করতে হবে।”
“দ্বিতীয়ত, কারাপশন আমাদেরকে যেভাবেই হোক অ্যাড্রেস করতে হবে। দুর্নীতিকে আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে। দুর্নীতি বিভিন্ন রকম দুর্নীতি আছে, বিভিন্ন পর্যায়ের। আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে এই দুটো জিনিসকে অ্যাড্রেস করা। এই দুটো জিনিসকে যদি আমরা একটু ভালো করে অ্যাড্রেস করতে পারি অন্য সমস্যার সমাধান অনেকাংশে সমাধান হয়ে আসবে। এটা হচ্ছে আমার, দিস ইস হাউ আই সি দি ম্যাটার।”
ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবে, স্বামী হারা নারীরা কি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন—এমন প্রশ্নও করা হয়।
বিএনপির যেসব প্রণোদনা প্যাকেজের পরিকল্পনা তার আওতা ধীরে ধীরে বাড়বে বলে জানান দলটির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এই মুহূর্তে একটা হিসাবের মধ্যে একটা ফ্যামিলিতে ৫ জন আছে…আমরা যে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি যেটা দেখে আমরা ঋণ দিব, ফ্যামিলি কার্ডে ডিটেইলস সব দেওয়া যায় না। স্বাভাবিক সব ডিটেইলস দিতে পারতেছি না স্পেস কম। তবে আমরা চাচ্ছি, এই চিন্তা আমাদের আছে। এই এরিয়াটা আমরা আস্তে আস্তে বাড়াব।
“সিংগেল মাদার ব্রাইড, যারা বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে আছেন, স্বামী ছেড়ে গেছেন, দেখুন, আপনি যদি দেখেন, আমার ধারণা আছে, বাংলাদেশ গভর্নমেন্টের এই সোশাল সেফটির আওতায় ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু হয়েছে। কিন্তু এগুলো ঠিক নাই।”
“আপনার রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। একজন তিনটা সাপোর্ট পাচ্ছে, আরেকজন একটা পাচ্ছে না। আমরা এই জিনিসটাকে একটু অর্গানাইজ করতে চাইছি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। আমরা এটাকে ইউনিভার্সালির জন্য রেখেছি।”
উদাহরণ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “যেমন একজন কৃষকের স্ত্রীও (ফ্যামিলি কার্ড) পাবেন, একজন ভ্যান চালকের স্ত্রী, উনিও পাবেন, আরেকজন অফিশিয়াল, তার ওয়াইফও পাবেন।”
সব উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।
“মূল বিষয়টা হচ্ছে কারাপশন লেভেলটাকে কম রাখা। কারাপশন লেভেলটাকে যতটুকু সম্ভব কম রাখা যায়” বলেন তিনি।