প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৪ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪০ পিএম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
একের পর এক নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে নিজের ক্ষমতা তিনি প্রলম্বিত করেছেন। তার আমলে অনুষ্ঠিত কলঙ্কিত নির্বাচনের নজির বিশ্বে বিরল। এখন ভারতে পলাতক সেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না।
দিল্লি প্রেস ক্লাবে শুক্রবার আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় পাঠানো অডিওবার্তায় এ অভিযোগ করেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর প্রথম প্রকাশ্য ভাষণে এমন মন্তব্য করলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি; যা অনেকটা বাংলা প্রবচন ‘সুচের ছিদ্রের নিন্দায় চালুনি’র মতোই।
বাংলাদেশের বারংবার অনুরোধ উপেক্ষা করে ভারত তাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে এবং দণ্ডিত হওয়ার পরও ফিরিয়ে দিচ্ছে না। বরং সেখানে বসে বাংলাদেশ, এদেশের জনগণ ও সরকারবিরোধী বিষোদগার ও প্রোপাগান্ডা চালানোর অবাধ সুযোগ দিয়ে রেখেছে।
বিগত ২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর তিনি পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার এই বক্তব্যে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইংরেজিতে পাঠানো অডিওবার্তায় বিরোধী দল ও মত নিষ্ঠুরভাবে দমন, ভয়াবহ নিপীড়ন ও গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। একটি জাতি ক্ষত ও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র নির্বাসনে চলে গেছে।’
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে মৃত্যু উপত্যকা এবং বিশাল কারাগার হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশ একসময় তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করেছিলেন, বর্তমানে চরমপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং বিদেশি অপরাধীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সংবিধান সুরক্ষা ও সমুন্নত রাখতে হবে।
ওই অডিওবার্তায় শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের ওপর থেকে ইউনূসের ছায়া না সরানো পর্যন্ত বাংলাদেশে কখনও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।”
ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা ইউনূস সরকারকে ‘বিদেশের স্বার্থরক্ষাকারী পুতুল সরকার’ আখ্যা দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি বলেন, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস একজন সুদখোর, একজন অর্থ পাচারকারী, একজন লুণ্ঠনকারী, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত, একজন ক্ষমতালিপ্সু বিশ্বাসঘাতক তার সর্বগ্রাসী শক্তি দিয়ে আমাদের জাতিকে রক্তাক্ত করে তুলেছে।
শেখ হাসিনা এই বক্তব্য ‘বাংলাদেশ অ্যাট দ্য ক্রসরোডস’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় দিয়েছেন, যেখানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং সাবেক মন্ত্রীরাও ছিলেন। অনলাইনে প্রচার করা এই ভাষণ এক লাখের বেশি মানুষ দেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে হাসিনার সমালোচনা করে কেউ কেউ মন্তব্যও করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা একের পর এক মন্তব্যে লিখেছেন, ‘নো বোট, নো ভোট’। উল্লেখ্য, বর্তমানে কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের সাবেক নির্বাচনি প্রতীক হলো নৌকা।
সূত্র: এএফপি ও একাধিক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।