প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৮ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এর জন্য তিনটি শর্ত পূরণে জোর দিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় শুক্রবার তিনি এ আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। আমরা মনে করি, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই বাংলাদেশ গড়তে হবে ইনশাআল্লাহ।”
তিনি দেশের মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন, “ঠাকুরগাঁওবাসী, এর আগে দফায় দফায় আপনারা অনেককেই আপনারা মূল্যবান ভোট, ভালোবাসা, সমর্থন দিয়েছেন। এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নয়, এবার এই দেশের মুক্তিপাগল মানুষের ১০ দলের একটা ঠিকানা—সেই ঠিকানাকে আপনারা ভোট দেবেন ইনশাআল্লাহ।”
শফিকুর রহমান বলেন, তারা এককভাবে দেশ পরিচালনা করতে চায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলের আধিপত্যে দেশ পরিচালনায় বাধা দিতে পারবে না।
দুর্নীতিরোধ, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠন—সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এই তিন শর্ত মানতে হবে।
প্রথম শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, “কোনো দুর্নীতি নিজে করবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দেবেন না।”
দ্বিতীয় শর্তে তিনি উল্লেখ করেন, গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, “সেই বিচারে কেউ রাজনীতিবিদি হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। আর বিচার হবে ন্যায়ের ভিত্তিতে, কোনো বে-ইনসাফি বিচার আর বিক্রি হবে না।”
তৃতীয় শর্তে শফিকুর চাঁদাবাজি, দুঃশাসন, দুর্নীতি দমনের বিষয়ে জোর দেন।
এ বিষয়ে বলেন, “চুয়ান্ন বছরের বস্তাপচা রাজনীতি—যেটা দুঃশাসন আর দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে ফেলেছে। চাঁদাবাজদের রমরমা ব্যবসা আর জনগণের জান যাওয়ার উপক্রম।
“এই সবকিছু বদলাতে হলে বৈষম্য বদলাতে হলে—অঞ্চলে অঞ্চলে বৈষম্য, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বৈষম্য, পরিবারে পরিবারে বৈষম্য, গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে বৈষম্য, দলে দলে বৈষম্য—সকল বৈষম্যের আমরা কবর রচনা করতে চাই।”
অঞ্চল, ব্যক্তি, পরিবার ও গোষ্ঠীভিত্তিক সকল বৈষম্য দূর করার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “সকল প্রস্তাব গণভোটে দেওয়া হয়েছে, সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়ে গণভোটকে পাস করিয়ে দেওয়া।”
একক দলীয় শাসন প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “এবার জনগণের শাসন চাই। আলেম-ওলামা থাকবেন, দেশের দক্ষ মানুষ থাকবেন, দেশপ্রেমিক দলগুলো থাকবে—যারা দেশকে ভালোবাসে, কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না; তাদের সবাইকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব ইনশাআল্লাহ।”
ভোটারদের উদ্দেশে শফিকুর আহ্বান জানান, “ওই মানুষগুলোকে নির্বাচিত করুন—যারা মানুষকে সম্মান করতে জানে, ভালোবাসতে জানে। ওই মানুষগুলোকে নির্বাচিত করুন—যাদের হাতে দেশ আসলে বিদেশে বন্ধু খুঁজবে; কিন্তু কোনো প্রভু মানবে না।”